Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাদারিহাটের বধূকে পুড়িয়ে খুনের ঘটনায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্ত্রীর শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলার ঘটনায় বধূর স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আলিপুরদুয়ার আদালত। পৈশাচিক ওই ঘটনায় বধূর শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেওরকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মাদারিহাটের বধূকে পুড়িয়ে খুনের ঘটনায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  • ১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: স্ত্রীর শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলার ঘটনায় বধূর স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আলিপুরদুয়ার আদালত। পৈশাচিক ওই ঘটনায় বধূর শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেওরকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার এই সাজা ঘোষণা করেন জেলা আদালতের ফার্স্ট ট্র্যাক সেকেন্ড কোর্টের বিচারক। 

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার স্বামীর নাম সইদুল খান। আদালত সাজাপ্রাপ্ত সইদুলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছে। পাশাপাশি বধূর শ্বশুর মহব্বত খান, শাশুড়ি কবিতা বেগম ও দেওর সামসুল খানকে মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে আদালত। 
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৯ সালে মাদারিহাটের দক্ষিণ শিশুবাড়ি গ্রামের সইদুল খানের সঙ্গে সামাজিক মতে বিয়ে হয়েছিল নুরিমা বেগমের। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই নুরিমার উপর অকথ্য অত্যাচার চালাত তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এই অভিযোগ ছিল বধূর বাবা আজিজুল হকের। দিনের পর দিন বধূর উপর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলছিল বলে অভিযোগ। এরপর ২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি 
নুরিমা বেগমের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠে। পরের দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু হয় দগ্ধ নুরিমার। 
এরপরেই বধূর বাবা আজিজুল হকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস বধূর স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিস বধূর মৃত্যুকালীন জবানবন্দিও নিয়েছিল। এই মামলায় ১৬ জনের সাক্ষ্য নেয় আদালত। শুনানি শেষে আদালত চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করে এদিন রায় ঘোষণা করে। আদালতের সরকারপক্ষের আইনজীবী দুলাল ঘোষ বলেন, এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণে সময় লেগেছিল। শেষ পর্যন্ত আইনের চোখে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বুধবার আদালত ওই পরিবারের চারজনের সাজা ঘোষণা করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ