


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রীকে খুনের দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন জেল হল। শাশুড়িকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন বউমা। এ কারণে তাঁকেও কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করে অভিযুক্ত। ওই ঘটনাতেও আদালত অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের ফাস্টট্র্যাক ফার্স্ট কোর্টের বিচারক স্বাতী মুখোপাধ্যায় ওই সাজা ঘোষণা করেন। ২০১৬ সালের ১জুন ধূপগুড়ির সাতভেণ্ডি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সাজাপ্রাপ্তর নাম গোবিন্দ সরকার (৫৮)। মামলার সরকারপক্ষের আইনজীবী প্রতীকলাল ঝা চক্রবর্তী বলেন, স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অনাদায়ে দু’বছর জেল। অন্যদিকে, বউমাকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে একবছর জেলের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
পুলিস সূত্রে খবর, পারিবারিক বিবাদের জেরে খুনের ঘটনাটি ঘটে। নিহত জ্যোৎস্না সরকারের জামাই ধূপগুড়ির ডামবাড়ির বাসিন্দা কালু সরকার পুলিসের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ২০১৬ সালের ১জুন ধূপগুড়ি থানায় দায়ের হওয়া ওই অভিযোগে কালু জানান, তাঁর শাশুড়ি স্নান সেরে ঘরে যাচ্ছিলেন। সেসময় তাঁকে উদ্দেশ করে শ্বশুর গোবিন্দ সরকার গালিগালাজ করে। এর প্রতিবাদ করতেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে শাশুড়ির উপর চড়াও হয় শ্বশুর। এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। ওই ঘটনা দেখে শাশুড়িকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন বউমা ঝুমা সরকার। কিন্তু শ্বশুর তাঁকেও কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করে। প্রতিবেশীদের তৎপরতায় কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে যান ঝুমা। কিন্তু গুরুতর জখম হন। প্রথমে তাঁকে ধূপগুড়ি, পরে জলপাইগুড়ি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। পরবর্তীতে শিলিগুড়ির একটি হাসপাতালে রেফার করা হয় ঝুমাকে। অন্যদিকে, স্বামীর অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জ্যোৎস্নাদেবী। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এ ঘটনায় গোবিন্দ সরকারের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে খুন ও বউমাকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।
জেলা পুলিস সুপার খণ্ডবাহালে উমেশ গণপত বলেন, মামলার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন এসআই বীরেন্দ্র সিং নেগি। তদন্তে নেমে তিনি অভিযুক্ত গোবিন্দ সরকারকে গ্রেপ্তার করেন। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিস। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা হয়। দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে ২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিস।
মামলার সরকারপক্ষের আইনজীবী বলেন, এই মামলায় ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর আদালতে চার্জ গঠন হয়। ২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। আদালতে দশজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে নিহতের ছেলে, বউমা ও অভিযোগকারী কালু সরকার অর্থাৎ নিহতের জামাইও সাক্ষ্য দিয়েছেন। গোবিন্দ সরকার।