Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিলেন স্বামী, অবাক বিয়ের সাক্ষী পাণ্ডুয়া

সিনেমার মতো হয়েও শেষপর্যন্ত তা হল না। সিনেমার স্বামী তাঁর স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিতে বিদেশ পাড়ি দিয়েছিলেন।

স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিলেন স্বামী, অবাক বিয়ের সাক্ষী পাণ্ডুয়া
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সিনেমার মতো হয়েও শেষপর্যন্ত তা হল না। সিনেমার স্বামী তাঁর স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিতে বিদেশ পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত স্ত্রী, প্রেমিকের বদলে স্বামীর কাছেই থেকে যান। পাণ্ডুয়ার সঙ্গীতা দাস অবশ্য প্রেমিকের সঙ্গে মধ্যরাতে নতুন ‘বাড়ি’তে পাড়ি দিয়েছেন। সঙ্গে নিয়েছেন ছ’বছরের ছেলেকে। এর আগেই স্ত্রী’র ইচ্ছেকে সম্মান দিয়ে প্রেমিক অনব বৈদ্যের হাতে তাঁকে সম্প্রদান করেন স্বামী প্রণয় দাস। এ ঘটনায় আঘাত পেলেও অন্য এক রকমের আনন্দের স্বাদও পেয়েছেন প্রণয়। তিনি বলেন, ‘আমার সুখ ছিল না। এখনও থাকবে না। কিন্তু সঙ্গীতা অন্তত সুখী হোক। সেটা চেয়েই বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’ পাণ্ডুয়ার এই ঘটনার ভাইরাল ভিডিয়োর সত্যতা অবশ্য যাচাই করা হয়নি।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি পাণ্ডুয়ার সিমলাগড়ের। সেখানকার বিখ্যাত কালীমন্দির এলাকাতেই বাড়ি প্রণয় দাসের। তিনি পেশায় চা ব্যবসায়ী। একটি দোকান আছে জিটি রোডের ধারে। বুধবার রাতে কালীমন্দিরেই প্রেমিকের সঙ্গে মালাবদল ও সিঁদুর দান করিয়ে স্ত্রী’র আবার বিয়ে দেন তিনি। সঙ্গে কয়েকজন বন্ধুবান্ধব ‘সিনেমার মতো’ এই বিয়ের সাক্ষী থেকেছেন। রাতেই প্রেমিক তথা নতুন স্বামীর বাইকে চেপে মাথা ভরা সিঁদুর নিয়ে শ্বশুরবাড়ি চলে যান সঙ্গীতা। তবে বিয়ে প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার কথা বলতে চাননি। তাঁর নতুন স্বামী তথা প্রেমিক অনব বৈদ্য বলেন, ‘আমরা বছর তিনেক সম্পর্কে ছিলাম। বুধবার রাতে বিয়ে করেছি। আমি সঙ্গীতার সন্তানকেও আপন করেছি। প্রণয় নিজে আমাদের বিয়ে দিয়েছেন। ওঁর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’ 
জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে মেমারির বাসিন্দা সঙ্গীতার সঙ্গে প্রণয়ের বিয়ে হয়। দম্পতির একটি ছ’বছরের ছেলে। তিনবছর আগে সঙ্গীতার সঙ্গে সিমলাগড়ের চাঁপাহাটি দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা অনবের সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে সম্পর্ক গাঢ় হয়। প্রণয়ের দাবি, গত একবছর ধরে দু’জনে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে ছিলেন। সংসার থেকে মন উঠে গিয়েছিল স্ত্রী’র। এই পরিস্থিতিতে বুধবার গভীর রাতে সিমলাগড় বাস স্ট্যান্ডের কাছে দু’জনকে একসঙ্গে দেখে ফেলেন প্রণয়। আক্রোশে দু’জনকে আঘাতও করেন। স্থানীয়দের উদ্যোগে প্রেমিক ও প্রেমিকাকে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধেও রাখাও হয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত ক্ষোভের পরিবর্তে ভিন্ন রূপ ধরেন প্রণয়। তিনি বলেন, ‘দু’জনকেই জিজ্ঞাসা করি, তাঁরা কি চায়? আমাদের সন্তানের ভবিষ্যতের কথাও জানতে চাই। দু’জনেই বলেন, তাঁরা পৃথক সংসার করতে চায়। ছেলেকেও তাঁরা আপন করে নেবে। তারপর আর কোনও অভিযোগ আমার ছিল না। স্ত্রীকে রাতেই মন্দিরের দেবীকে সাক্ষী করে অনবের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছি।’ বৃহস্পতিবারও গলাটা ভেজা ভেজা শোনাচ্ছিল প্রণয়ের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ