সংবাদদাতা, বোলপুর: নানুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় স্বামীকে দোষী সাব্যস্ত করল বোলপুর আদালত। ২০১৭ সালে ঘটনাটি ঘটে নানুরের রানিবাজার গ্রামে। এই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। দু’জন সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেলেও স্বামী তথা মূল অভিযুক্ত দোষী প্রমাণিত হওয়ায় খুশি মৃতার পরিবার। তাঁরা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আজ, শুক্রবার অভিযুক্তের সাজা ঘোষণা হবে বলে বোলপুর আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালের ৪ মার্চ ঘটনাটি ঘটে। চাষের আলু ভাগাভাগি নিয়ে ঝামেলার সূত্রপাত। ওইদিন নানুরের রানিবাজারের গৃহবধূ মানবী সাঁতরা(২৫) মাঠ থেকে আলু নিয়ে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু তাঁর স্বামী গৌতম সাঁতরা সেগুলি কেড়ে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করতে চাইলে দু’জনের মধ্যে বচসা বেধে যায়। এরপরেই গৌতম, মানবীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। তাতে মানবীর গোটা শরীর আগুনে ঝলসে যায়। পুরো ঘটনায় গৌতমের দাদা উত্তম সাঁতরা ও তাঁর স্ত্রী মালতি সাঁতরা প্ররোচনা দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে নানুর থানার পুলিস। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মানবীকে তারা নিকটবর্তী মঙ্গলকোট হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার পরপরই পুলিস স্বতঃপ্রণোদিত ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ৯ মার্চ দগ্ধ মানবীর মৃত্যু হলে ওইদিন তিন অভিযুক্তকেই নানুর থানার পুলিস গ্রেপ্তার করে। মামলা ওঠে বোলপুর আদালতে। আট বছর ধরে সেই মামলা চলে। এ যাবৎ অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত ছিল।
সরকারি আইনজীবী তপনকুমার দাস বলেন, এই ঘটনায় ১২ জন সাক্ষ্য দেন। তার ভিত্তিতে মানবীর স্বামী গৌতম সাঁতরাকে দোষী সাব্যস্ত করেন বোলপুর আদালতের বিচারক উমেশ সিং। তবে, সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে অভিযুক্ত গৌতমের দাদা উত্তম ও তার স্ত্রী মালতিকে বেকসুর খালাস করে আদালত।