নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুলিসের কাছে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে মারল স্বামী। মৃত গৃহবধূর নাম মনজুরা বিবি (৩০)। অভিযুক্ত স্বামী রজব আলি পলাতক। ঘটনাটি রবিবার ভোররাতে ঘটেছে হুগলির দাদপুরের বিলায়েতপুরে। স্ত্রী থানায় অভিযোগ করেছেন জেনে তাঁকে খুনের হুমকি দিয়েছিল রজব। আতঙ্কে রাতেই দুই সন্তান ও এক আত্মীয়াকে নিয়ে পাশের গ্রামে মামার বাড়িতে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন মনজুরা। কিন্তু তাঁর সেই চেষ্টা সফল হয়নি। সকালে বিলায়েতপুরে বাঁধের ধার থেকে ওই গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। রজব সন্তানদের অবশ্য আগেই অন্যত্র সরিয়ে দিয়েছিল।
হুগলি গ্রামীণ পুলিসের কর্তারা জানিয়েছেন, রজবকে পাকড়াও করতে একাধিক থানাকে সতর্ক করা হয়েছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃতার দাদা চন্দননগরের ন’পাড়ার বাসিন্দা রফিক শেখ বলেন, প্রায় প্রতিদিনই বোনের উপর অত্যাচার চালাত রজব। সম্প্রতি বন্ধুদের এনেও মারধর করেছিল। তারপর আমরা থানায় অভিযোগ জানাই। গত মঙ্গলবার ভগ্নিপতি মিটমাট করে বোনকে পায়রাউড়াতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। শনিবার দুপুরে ভদ্রেশ্বরের শ্বেতপুর ফাঁড়ির পুলিস বোনকে ফোন করে রজবকে দেখা করতে বলে। রাত ১১টায় সে বোনকে ফোন করে হুমকি দেয়, থানায় যেতে হলে তোকে খুন করে যাব। বোন রাতেই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু রজব আমার বোনকে রাস্তার মাঝে খুন করে পালিয়েছে। ওর চূড়ান্ত শাস্তি চাই।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দননগরের ন’পাড়ার বাসিন্দা মনজুরা খাতুনের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সিঙ্গুরের বাসিন্দা রজব আলির। রজব পেশায় দিনমজুর। বিয়ের পর থেকেই ওই দম্পতির মধ্যে বিবাদ চলত। তাঁদের দু’টি নাবালক সন্তান আছে। সম্প্রতি অত্যাচারের মাত্রা বেড়েছিল। দিন পনেরো আগে কয়েকজন বন্ধুকে বাড়িতে নিয়ে এসে তাদের সামনেই স্ত্রীকে বেদম মারে রজব। তারপর মনজুরা ছেলেমেয়েকে নিয়ে চন্দননগরে বাপের বাড়িতে চলে আসেন। গত মঙ্গলবার স্ত্রীকে বুঝিয়ে বাড়ি নিয়ে যায় রজব। পরের দিন বুধবার ছেলেমেয়েকেও ফিরিয়ে নিয়ে যায়। শনিবার দুপুরে পুলিসের ফোন আসার পর বিগড়ে যায় পরিস্থিতি। ক্ষুব্ধ রজব রাত ১১টার সময় স্ত্রীকে ফোন করে বলে, পুলিসের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগে তোকে খুন করব। ভয় পেয়ে রাতেই পাশের গ্রামে মামার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন মনজুরা। কিন্তু দাদপুর গ্রামের সীমানায় তাঁকে ধরে ফেলে রজব। ছেলেমেয়েকে এক বন্ধুর সঙ্গে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে সে আটকে রাখে মনজুরাকে। সকালে তাঁর মৃতদেহ মেলে। পাশাপাশি, নিজের ও স্ত্রী’র ফোন সুইচড অফ করে গা ঢাকা দেয় রজব।