সংবাদদাতা, ডোমকল: সবকিছু প্ল্যান মাফিকই চলছিল। খুন করে এলাকা ছাড়তে ট্রেনের পরিবর্তে ফ্লাইট ধরার পরিকল্পনা ছিল। ঝক্কি এড়াতে কেরলগামী বিমানের পরিবর্তে হায়দরাবাদের টিকিট কেটে সেখান থেকে কেরলে গা ঢাকা দেওয়ার ছক কষা ছিল। প্ল্যান এতই নিখুঁত ছিল যে, মোবাইল নেটওয়ার্কের সূত্র ধরে পুলিস যাতে নাগাল না পায়, তার জন্য মোবাইলটিকেও সঙ্গে নেয়নি অভিযুক্ত। প্রথম থেকে সবকিছু ঠিকঠাক চললেও পুলিসের বুদ্ধির কাছে হার মানতে বাধ্য হল অভিযুক্ত। ডোমকলে স্ত্রীকে খুন করে পালাতে পারল না তাঁর স্বামী। ফিল্মি কায়দায় বিমানবন্দরে ওত পেতে অভিযুক্তকে ধরল পুলিস। ধৃতের নাম আবুল বাশার মণ্ডল। সোমবার রাতে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। মঙ্গলবার ১৪ দিনের পুলিসি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে ধৃতকে বহরমপুর আদালতে পাঠিয়েছে ডোমকল থানার পুলিস।
গত শনিবার সকালে ডোমকলের দক্ষিণনগরে শ্বশুরবাড়ি থেকে শাকিলা বিবি (৩৮) নামে এক বধূর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিস। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল মৃতার স্বামী। এদিকে শাকিলার পরিবারের লোকজন তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধেই খুনের অভিযোগ তুলেছিল। শনিবার বিকেলে তাঁরা জামাই আবুল বাশার মণ্ডলের বিরুদ্ধে মেয়েকে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মৃতদেহটির ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও দেখা যায়, শাকিলাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। ডোমকল থানার আইসি পার্থসারথি মজুমদারের নেতৃত্বে শুরু হয় তদন্ত। অভিযুক্তের খোঁজে সোর্স ইনপুট থেকে শুরু করে একাধিক জায়গায় হানা দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্তের খোঁজ মেলেনি। তার মোবাইল নেটওয়ার্কের সূত্র ধরেও কোনও কিনারা করতে পারেনি পুলিস। তবে পুলিসের সন্দেহ হয়, যেহেতু ওই যুবক দীর্ঘদিন কেরলে থাকত, তাই কেরলেই গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। কালবিলম্ব না করে সাহায্য নেওয়া হয় জিআরপি ও রেল পুলিসের। তাঁদের ওই অভিযুক্তের ছবি সহ সমস্ত তথ্য দেওয়া হয়। পাশপাশি জানানো হয়, যে কোনও ভাবেই হোক ওই যুবককে পাকড়াও করা প্রয়োজন। সেখানে হানা দেয় পুলিসের একটি টিমও। কিন্তু তাতেও সন্দেহ কাটেনি পুলিসের। তাঁদের শঙ্কা ছিল পুলিসের চোখে ধুলো দিতে অভিযুক্ত আকাশপথেও রাজ্য ছেড়ে পালাতে পারে। এরপরই ডোমকল থানার পুলিসের একটি টিম বিধাননগর পুলিস কমিশনারেটের অন্তর্গত বিমানবন্দরের এনএসসিবিআই থানার সাহায্য চায়। তাদের মাধ্যমেই বিমানবন্দরের তথ্য সংগ্রহ করে পুলিস জানতে পারে, ওই নাম ও ঠিকানার একজন হায়দরাবাদের টিকিট কেটেছে। তার ফ্লাইট সোমবার রাতে। এরপরই অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে দুই থানার পুলিস ও সিআরপিএফ ওত পাতে বিমানবন্দরে। সন্ধ্যা হতেই তিন নম্বর গেট দিয়ে বিমানবন্দরের ঢোকে অভিযুক্ত। তাকে প্রবেশ করতে দেখেই গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয় সাদা পোশাকের পুলিসের বিশেষ টিমকে। অভিযুক্ত বোর্ডিং পাসের কাউন্টারের কাছে যেতেই তাকে ঘিরে ধরে আটক করে সাদা পোশাকের পুলিসকর্মী ও সিআরপিএফ।
পরে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে তাকে গ্রেপ্তার করে রাতেই ডোমকল থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিস সূত্রে খবর, ধৃত জিজ্ঞাসাবাদে খুনের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে। তবে কী কারণে স্ত্রীকে খুন করল সে, তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে পুলিস।