নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন কলকাতায়। উঠেছিলেন নিউটাউনের একটি গেস্ট হাউসে। কিন্তু ঘুরে বেড়ানোর বদলে পরকীয়া নিয়ে শুরু হয় স্বামী-স্ত্রীর অশান্তি। যার পরিণতি হল মর্মান্তিক! গেস্ট হাউসেই গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে স্ত্রীকে খুন করলেন স্বামী। তারপর স্বামী নিজেই ১০০ ডায়াল করে পুলিসকে ফোন করেন! মঙ্গলবার এই ঘটনা সামনে আসার পর ব্যাপক শোরগোল ছড়িয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম ইতিকা মণ্ডল (২৪)। স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে স্বামী বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে নিউটাউন থানার পুলিস। ধৃত যুবক জেরায় খুনের কথা কবুলও করেছেন। খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দম্পতির বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। তাঁরা সোমবার কলকাতায় এসে নিউটাউনের গৌরাঙ্গনগর এলাকায় একটি গেষ্ট হাউসে ওঠেন। ইকোপার্ক ঘোরার কথাও ছিল তাঁদের। মঙ্গলবার বেলার দিকে পুলিসের কাছে (১০০ ডায়াল) একটি ফোন আসে। এক ব্যক্তি ফোনে বলেন, ‘আমি স্ত্রীকে খুন করেছি।’ কোন গেস্ট হাউসে খুন হয়েছে, তাও বলে দেন সেই ব্যক্তি। পুলিস কিছুক্ষণের মধ্যে গেস্ট হাউসে পৌঁছে দেখে, একটি রুমে ইতিকার নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। গেস্ট হাউসেই ছিল বিশ্বজিৎ। পুলিস তাঁকে আটক করে। পুলিসকে তিনি বলেন, ‘আমিই ১০০ ডায়াল করেছিলাম। আমিই খুন করেছি।’
কীভাবে খুন করা হয়েছে? প্রাথমিক জেরায় বিশ্বজিৎ পুলিসকে জানান, সকালে অশান্তির সময় তাঁর মাথা গরম হয়ে যায়। তখনই প্যান্ট থেকে বেল্ট খুলে স্ত্রীর গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেন তিনি। খুনের কারণ কী? অশান্তিই বা কী নিয়ে? পুলিসের দাবি, বিশ্বজিৎ জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে একাধিক যুবকের সম্পর্ক রয়েছে। তা নিয়েই তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। আগেও পরকীয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তা চরমে উঠে। তারপরই এই ঘটনা। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য আর জি কর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে বিশ্বজিৎ যে দাবি করেছেন, তার সত্যতাও যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। তিনি সত্যি কথা বলছেন, নাকি এই খুনের পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রহস্যজনক কারণ, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।