সংবাদদাতা, চাঁচল: অতিরিক্ত পণের দাবিতে শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত অত্যাচার চলত। বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা না আনায় মহিলার মুখে কীটনাশক ঢেলে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল। এনিয়ে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মা মনোয়ারা খাতুন। অভিযোগের ভিত্তিতে মহিলার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃত রবিউল আলমকে শনিবার চাঁচল মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
মনোয়ারার বাপের বাড়ি চাঁচল থানার বলরামপুরে। তিন বছর আগে তাঁর বিয়ে হয় উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার থানার ছিনিমপুর গ্রামে। স্বামী পরিযায়ী শ্রমিক। সদ্য হাঁটতে শেখা কন্যা সন্তান রয়েছে তাঁদের। বিয়ের সময় রবিউলের পরিবারের চাহিদা মতো টাকা, গয়না, বাইক ও অন্য আসবাবপত্র দেওয়া হয় বলে দাবি। অভিযোগ, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকে ফের শ্বশুরবাড়ির লোকজন পণের অতিরিক্ত আরও পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করে। বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার চাপ দেওয়া হয় বধূকে। টাকা না আনায় তাঁকে মারধর ও মানসিক অত্যাচার চালানো হত বলে অভিযোগ। স্বামী ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজে চলে গেলে শ্বশুর,শাশুড়ির নির্যাতন সহ্য করতে হতো বধূকে।
অভিযোগ, গত শনিবার রবিউল ভিনরাজ্য থেকে বাড়ি ফেরেন। সেদিন স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ভাসুর ও পরিবারের অন্য সদস্যরা একজোট হয়ে মাটিতে ফেলে মনোয়ারাকে মারধর করে। সেই সময় মুখে জোর করে কীটনাশক ঢেলে দেওয়া হয় বধূর মুখে। প্রতিবেশীরাই বধূকে উদ্ধার করে ইটাহার হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে রেফার করা হয় রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ছুটি পেয়ে মঙ্গলবার স্বামীর বাড়িতে ওঠেন মনোয়ারা। মেয়েকে দেখতে গেলে মনোয়ারার মাকেও মারধর করা হয়। এরপর বধূ বাপের বাড়ি চলে এলে সেখানে এসেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মারধর করে বলে অভিযোগ। শুক্রবার রাতে থানার দ্বারস্থ হন মনোয়ারা। তিনি বলেন, বাবা গরিব। পাঁচ লক্ষ টাকা কীভাবে দেবে। টাকা না দেওয়ায় আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।
চাঁচল থানার এক আধিকারিক বলেন, অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।