Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুকুরে চারচাকা নামিয়ে জলে ডুবিয়ে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ, পরকীয়া সম্পর্কের জের? স্বামী গ্রেফতার হতে উঠছে প্রশ্ন

মেমারি থেকে দেবীপুরের হাটবাকসা গ্রামে যাওয়ার পথে দ্রুতগতিতে একটি চারচাকা গাড়ি ঘোষগ্রামের পুকুরে নেমে গেল।

পুকুরে চারচাকা নামিয়ে জলে ডুবিয়ে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ, পরকীয়া সম্পর্কের জের? স্বামী গ্রেফতার হতে উঠছে প্রশ্ন
  • ১৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেমারি: মেমারি থেকে দেবীপুরের হাটবাকসা গ্রামে যাওয়ার পথে দ্রুতগতিতে একটি চারচাকা গাড়ি ঘোষগ্রামের পুকুরে নেমে গেল। গাড়ির চালকের আসনে বসে থাকা যুবক কিছুক্ষণ পরই নাটকীয়ভাবে উঠে এল। পাড়ে এসে চিৎকার করতে থাকেন, ‘আমার স্ত্রীকে বাঁচাও’। আশপাশের লোকজন ছুটে এলেন। পুকুরে নেমে গাড়ির দরজা খুলে ভিতরে দেখলেন, সেখানে কেউ নেই। জলে জাল ফেলে তল্লাশি শুরু হল। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর গ্রামবাসীরা পুকুর থেকে আসমাতারা খাতুন বিবি(২৫) নামে গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার করেন। গাড়ির চালকের আসনে বসে থাকা তাঁর স্বামীর দাবি, নিছকই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে, গ্রামবাসীরা তা মানতে নারাজ। পুলিশও তার যুক্তি মানেনি। মৃতার পরিবারের লোকজনদের খুনের অভিযোগের ভিত্তিতে বধূর স্বামী মুকুল শেখকে মেমারি থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মুকুলের প্রেমিকার বিরুদ্ধেও থানায় অভিযোগ হয়েছে। 

Advertisement

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, খুন না দুর্ঘটনা তা এখনই বলা যাচ্ছে না। মৃতার স্বামীকে হেপাজতে নিয়ে জেরা করা হবে।
মৃতার আত্মীয়রা বলেন, পরিকল্পনা মাফিক খুন করা হয়েছে। মুকুলের সঙ্গে এক মহিলার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারপর থেকেই অশান্তি শুরু হয়। এর আগেও সে স্ত্রীকে মারধর করেছে। পথের কাঁটা সরাতে ঠান্ডা মাথায় ওই বধূকে খুন করা হয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল রহমান বলেন, এটা কখনই দুর্ঘটনা হতে পারে না। ঘটনার সময় দেখা যায়, মুকুলের কোমরের অংশ পর্যন্ত ভেজা রয়েছে। তার মানে গাড়ি পুকুরের মাঝে তখনও যায়নি। তাছাড়া, সে বের হয়ে আসতে পারলেও আসমাতারা কেন পারলেন না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি গ্রামের মহিলা, সাঁতার কাটতে জানতেন। ওই পুকুরে সাঁতার কাটা তাঁর কাছে বড় বিষয় নয়। গাড়ির দরজা বন্ধ ছিল। ওই অবস্থায় তিনি বের হবেন কীভাবে? তাঁকে কি আগেই শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল, নাকি জলে ডুবিয়ে মারা হয়েছে! 
মৃতার এক ভাই বলেন, ওইদিন বিকেলে পাশের বাড়ির একজনের গাড়ি নিয়ে মুকুল আসমাতারাকে বর্ধমানে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল। রাত ৮টা নাগাদ তারা মেমারি শহরে ফিরে আসে। সেকথা আসমাতারা ফোন করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের জানান। রাত ১০টার পর ওই ঘটনার খবর পাওয়া যায়।
এদিকে, এলাকায় উত্তেজনা থাকায় রাতেই মেমারি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। মৃতার স্বামীকে রাতেই থানায় আটক করে আনা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। তদন্তকারীরা ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টের অপেক্ষা করছেন। মৃতার স্বামী পুলিশি জেরাতেও বারবার দুর্ঘটনার কথা বলেছে। ওই গ্রামে ঢুকতে বাঁক রয়েছে। সেই কারণে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়নি বলে তার দাবি। পুলিশ এখনই তার কথা গুরুত্ব দিচ্ছে না। আপাতত মৃতার বাড়ির লোকজনদের অভিযোগের ভিত্তিতেই তারা তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ