Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অযোধ্যা পাহাড়ে আজ শিকার উৎসব, বন্য প্রাণীদের রক্ষায় তৎপর বনদপ্তর

অযোধ্যা পাহাড়ে আজ শিকার উৎসব,  বন্য প্রাণীদের রক্ষায় তৎপর বনদপ্তর
  • ১২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: আজ সোমবার বুদ্ধ পূর্ণিমা। সেই উপলক্ষ্যে অযোধ্যা পাহাড়ে রয়েছে আদিবাসীদের সবচেয়ে বড় শিকার উত্সব। এর পোশাকী নাম সেন্দ্রা পরব। শিকার উত্সবে যাতে বন্যপ্রাণের কোনও ক্ষতি না হয়, সেব্যাপারে তত্পর বনদপ্তর। 

Advertisement

প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা অর্থাৎ বুদ্ধ পূর্ণিমা তিথিতে জঙ্গলমহলের মানুষ মেতে ওঠেন শিকার উৎসবে। উত্সবে যোগ দিতে আসেন জেলার বাসিন্দাদের একটা বড় অংশ। তাছাড়া পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ড তো বটেই, আশপাশের জেলা থেকেও বহু মানুষ শিকার উত্সবে যোগ দেন। তির-ধনুক, বল্লম, তলোয়ার, টাঙি, কুঠার নিয়ে দিনভর তাঁরা জঙ্গলে ঘুরে বন্যপ্রাণী শিকার করেন। অযোধ্যা পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে রয়েছে চিতল হরিণ, বুনো শূকর, বন মুরগি, খরগোশ, ময়ুর থেকে শুরু করে অজস্র প্রজাতির পাখি। কয়েক বছর আগেও আদিবাসীদের এই ‘শিকার উৎসব’-এর বলি হয়েছে কত বন্যপ্রাণ! তির কিংবা বল্লমে বিদ্ধ হয়ে বেঘোরে প্রাণ গিয়েছে হরিণ, বুনো শূকরের। এমনিতে ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী যে-কোনও বন্যপ্রাণী হত্যা নিষিদ্ধ। কিন্তু আদিবাসীদের শিকার উত্সবে তা মানা হতো না বলে অভিযোগ ছিল। প্রশাসনও হাত গুটিয়ে বসে থাকত। এনিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলাও হয়। ২০১৯ সাল থেকে বন্যপ্রাণ হত্যা রুখতে তত্পরতা শুরু করে প্রশাসন। 
পুরুলিয়ার ডিএফও অঞ্জন গুহ বলেন, উত্সব যাতে রক্তপাতহীন হয়, তানিয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। শিকার উত্সবে বন্যপ্রাণ হত্যা রুখতে গত কয়েক বছর ধরেই আমরা সবরকম চেষ্টা করে আসছি। এবছরও দু’তিন মাস আগে থেকেই জঙ্গল অধ্যুষিত বিভিন্ন গ্রামে আমরা সচেতনতা প্রচার চালিয়েছি। দেড়শোর বেশি সচেতনতা শিবির হয়েছে। আদিবাসী সমাজের মানুষজনও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাঁর বন্যপ্রাণ হত্যা না করেই উত্সব পালন করবেন। এত সচেতনতা প্রচার সত্ত্বেও নিশ্চিত হতে পারছে না বনদপ্তর। দপ্তর সূত্রের খবর, বন্যপ্রাণ হত্যা রুখতে পুলিস, প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে বনদপ্তর। জেলাজুড়ে প্রায় ৪০টিরও বেশি নাকা পয়েন্ট করা হয়েছে। অযোধ্যা পাহাড় জুড়ে প্রায় ৩০০ পুলিস কর্মী এবং প্রায় সাড়ে তিনশো বনকর্মী মোতায়েন থাকবে। রবিবার বরাভূম, উড়মা, কোটশিলা, ঝালদা স্টেশনগুলিতেও সচেতনতা প্রচার করা হয়। এদিকে, শিকার উত্সবে যোগ দিতে রবিবার থেকেই হাজার হাজার মানুষ অযোধ্যা পাহাড়ে আসতে শুরু করেছেন। রবিবার রাতভর ধামসা-মাদল, নাচগান চলবে। 
ডিএফও জানাচ্ছেন, উত্সবে যাঁরা যোগ দিতে আসছেন, এই গরমে তাঁদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তারজন্য প্রায় ২০টি ওয়াটার পয়েন্ট থাকছে। ঠান্ডা জল, ওআরএস পাওয়া যাবে। এছাড়াও মেডিক্যাল ক্যাম্পেরও ব্যবস্থা থাকছে।  
• নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ