সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: হাইকোর্ট বাংলায় আগস্টেই ১০০ দিনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রকে। আদালতের এই নির্দেশের জেরে আশায় বুক বাঁধছেন ঝাড়গ্রাম থেকে ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়া কয়েকশো শ্রমিক। পরিবার টানতে কাজের আশায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যে যাওয়া ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ী ও নয়াগ্রামের এই দিনমজুর পরিবারগুলি এখন নিজেদের এলাকায় একশো দিনের কাজ শুরুর অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
কোমরে গামছা বেঁধে কোদাল নিয়ে মাটি কোপাচ্ছেন ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ীর মানুষগুলি। কেউবা বাঁধ তৈরির কাজে যোগ দিয়েছেন। বাড়ির মহিলারাও ১০০ দিনের প্রকল্পের নানা কাজে যুক্ত হতেন। এভাবেই কয়েক বছর আগে গ্রামে চলা ১০০ দিনের কাজ হাসি ফোটাত পরিবারগুলির মুখে। কিন্তু কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এই প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ায় গরিব মানুষগুলির দুর্ভোগ বেড়ে যায়। শেষমেশ কাজের খোঁজে বেলপাহাড়ী, নয়াগ্রাম ব্লকের প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক রাজস্থান, গুজরাত, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চলে গিয়েছেন। এদের অনেকেই বছরে একবার কেউ আবার ছ’মাস অন্তর বাড়ি ফিরতে পারেন। এলাকায় ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ ফের শুরু হলে তাঁদের আর ভিনরাজ্যে যেতে হবে না। এমনই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
নয়াগ্রামের বাঁশিয়াশোল গ্রামের শ্রমিক রাজীব মল্লিকের কথাই ধরুন। ওই শ্রমিককে সংসারের জোয়াল টানতে এক মাসের কোলের শিশু সহ স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভিনরাজ্যে টাইলস নির্মাণের কাজে চলে গিয়েছেন। পাশের বিভিন্ন জেলায় রাস্তা নির্মাণের কাজে ঠিকাদারি সংস্থায় ও ভিনরাজ্যে বোরিংয়ের কাজে চলে গিয়েছেন বেলপাহাড়ীর আমলাশোল, আমঝর্ণা, কাঁকড়াঝোড় সহ বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা। আমলাশোল গ্রামের বাসিন্দা হাঁদুসিং মুড়া বলেন, গ্রামে ১১০টি পরিবারের মধ্যে ৫০-৬০টি পরিবারের একজন করে ভিনজেলা ও ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজে চলে গিয়েছেন। আমঝর্ণা গ্রামে ৪০টি পরিবারের মধ্যে ৩০টি পরিবারের লোক ভিনরাজ্যে গিয়েছেন। ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ চালু হলে এই শ্রমিকরা আবার বাড়ি ফিরতে পারবেন। পরিবারের পাশে থেকে আশপাশের গ্রামেই কাজ পাবেন সবাই।
নয়াগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ বঙ্কিম ভক্তা বলেন, গ্রামগুলিতে কাজের খুবই অভাব। আমাদের চোখের সামনে গ্রামের এক যুবক এক মাসের সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে কাজের জন্য ভিনরাজ্যে চলে গেলেন। এবার ১০০ দিনের কাজ শুরু হলে যে যার ঘরে ফিরে সন্তান-সন্ততির পাশে থেকে শ্রমিকের কাজ করতে পারবেন। এই নিয়ে তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি প্রসূন ষড়ঙ্গি বলেন, ১০০ দিনের কাজ নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করে এসেছি। হাইকোর্ট আমাদের দাবিকে মান্যতা দিয়েছে। আমাদের দাবি যে ন্যায়সঙ্গত ছিল, তা প্রমাণিত হল। এবার কাজ পাওয়ার সঙ্গে শ্রমিকরা বকেয়া টাকা পেলে বহু পরিবারের মুখে হাসি ফুটবে।