নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে নিজেদের রিপোর্টে তুলোধনা করল স্বাস্থ্য বিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে স্বাস্থ্যে দেশবাসীর জন্য কম বিনিয়োগ, কোটি কোটি টাকা খরচ না হওয়া, শূন্যপদ—রীতিমতো পরিসংখ্যান তুলে ধরে চাঁচাছোলা ভাষায় স্বাস্থ্যক্ষেত্রে মোদি সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরেছে সেই রিপোর্ট। খুঁতগুলি দূর করতে কী কী করা উচিত, সেই সুপারিশও রয়েছে ৩২৬ পাতার রিপোর্টে। ১৮ মার্চ রাজ্যসভা ও লোকসভায় পেশ করা হয়েছে রিপোর্টটি। সেখানে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ২০১৭ সালে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ঘোষণা করেছিল। জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের মধ্যে জাতীয় গড় উৎপাদনের (জিডিপি) ২.৫ শতাংশ স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ করা হবে (প্রায় ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা)। সেই লক্ষ্যপূরণ দূর-অস্ত, বর্তমানে জাতীয় গড় উৎপাদনের মাত্র ০.২৬ শতাংশ বিনিয়োগ হচ্ছে স্বাস্থ্যে! রিপোর্টে বলা হয়েছে, আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে, বছর বছর স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। যেমন ২০২২-২৩ সালে ছিল ৮৩ হাজার কোটি টাকা, ২৩-২৪ সালে ৮৬ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ সালে ৯৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা এবং ২৬-২৭ মানে চলতি অর্থবর্ষে ১ লক্ষ ১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। কমিটির প্রশ্ন, বাজেট বরাদ্দ ৬ শতাংশ বেড়েছে বলে উৎসাহিত হওয়ার মোটেই কিছু নেই। কারণ, এই বৃদ্ধি মোটেও যথেষ্ট নয়। একদিকে দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতিও বছরে গড়ে ৫ শতাংশ। তাহলে আখেরে স্বল্প বাজেট বৃদ্ধি করে দেশবাসীর লাভের লাভ কী হল?



