সংবাদদাতা, কাঁথি: বিপজ্জনক দোতলা স্কুলভবনেই পড়াশোনা করছে শতাধিক ছাত্রছাত্রী। বারান্দার একের পর এক থামের সংযোগস্থলে ফাটল ধরেছে। ঝুলে রয়েছে সিমেন্টের চাঙড়। বৃষ্টি হলে দোতলার অ্যাসবেস্টসের চালা থেকে দেওয়াল বেয়ে জল পড়ে। জল থইথই ক্লাসরুমে বসে থাকে পড়ুয়ারা। রামনগরের মঙ্গলপুর চন্দ্রমোহন প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং উচ্চপ্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছবিটা এমনই।
একই ভবনের নীচেরতলায় প্রাথমিক ও ওপরতলায় উচ্চপ্রাথমিক বিদ্যালয় চলে। প্রাথমিকে ৯৬জন ও উচ্চপ্রাথমিকে ৬৬জন ছাত্র পড়াশোনা করে। জরাজীর্ণ ভবনে যে কোনো সময় বিপদের আশঙ্কায় থাকেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরা। অভিভাবকরাও ভবন সংস্কারের দাবিতে সরব হয়েছেন। বিডিও শুভাশিস মজুমদার বলেন, সমস্যা মেটানোর জন্য একটি স্কিম তৈরি করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, আর্থিক অনুমোদন মিলবে।
১৯৪৪ সালে চন্দ্রমোহন প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০০সাল নাগাদ বর্তমান ভবনটি তৈরি হয়। সেখানেই এখনও ক্লাস চলছে। পুরনো ভবনটি এখন অফিসঘর। ২০১১সাল নাগাদ এই ভবনটি দোতলা করে উপরতলায় উচ্চপ্রাথমিক স্কুল চালু হয়। দোতলায় চারটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। তার উপর অ্যাসবেস্টসের ছাউনি রয়েছে। তিন-চারবছর আগে থেকেই বারান্দার একের পর এক থামের সংযোগস্থল বসে গিয়ে ফাটল ধরতে শুরু করে। ক্রমশ সেই ফাটল বেড়েছে। বারান্দার ছাদ থেকে সিমেন্টের চাঙড় ঝুলে রয়েছে। যে কোনো সময় চাঙড় খসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বৃষ্টি হলে পিছনের দেওয়াল বেয়ে শ্রেণিকক্ষে জল ঢুকে যায়। এর আগে কয়েকবার অতিবৃষ্টিতে খুব সমস্যা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ভিত না করেই ভবনটি দোতলা করা হয়েছে। ফলে ফাটল বাড়ছে। ভবনটি ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ডাইনিং হল তৈরির জন্য কংক্রিটের চাতাল গড়া হয়েছিল। যদিও রান্নাঘর হয়নি। সেই চাতাল স্কুলের বারান্দার সমান। বৃষ্টি হলেই জল জমে যায়। ফলে ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসরুমের বেঞ্চেই মিড-ডে মিল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়।
অভিভাবক তপনকুমার সাউ, দেবদুলাল সাউ, নিত্যগোপাল সাউ বলেন, স্কুলের সমস্যা মেটাতে তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ না করা হলে আমরা আন্দোলনে নামব। উচ্চপ্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিআইসি বিশ্বজিৎ মিদ্যা বলেন, বেহাল ভবনের বিষয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে অনেকবার চিঠি দিয়েছি। ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে খুব ভয়ে ভয়ে ক্লাস করাতে হয়। আশা করছি, তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ করা হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অনুরূপা পাত্র মাইতি বলেন, শ্রেণিকক্ষে যাতে জল না ঢুকে যায়, সেজন্য প্রশাসনকে তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ করার আবেদন জানাচ্ছি। বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। বিধায়ক হিসাবে যতটুকু করা সম্ভব, নিশ্চয়ই করব।-নিজস্ব চিত্র