Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুলিসের স্ক্যানারে হুমায়ুনের হিমাচল যাত্রা, কার ডাকে দিল্লি ছেড়েছিল খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা

পুলিসের স্ক্যানারে হুমায়ুনের হিমাচল  যাত্রা, কার ডাকে দিল্লি ছেড়েছিল খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা
  • ২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: চাকরি ছেড়ে দিল্লি থেকে কয়েক মাস হিমাচল প্রদেশে কাটিয়েছিল মেমারির হুমায়ুন কবীর। একজনের ডাকেই সে সেখানে গিয়েছিল। অজ্ঞাত পরিচিত ওই ব্যক্তিই তাকে সেখানে আশ্রয় দিয়েছিল। সেখানে তার মগজ ধোলাইয়ের কাজও করা হয়। বাবা এবং মাকে নৃশংসভাবে খুনের পর বনগাঁ‌য় হামলার অভিযোগে ধৃত হুমায়ুন পুলিসকে জেরায় এমনটাই জানিয়েছে। সে জানিয়েছে, চাকরি করতে তার ভাল লাগত না। গরিব মানুষদের জন্য কাজ করাই লক্ষ্য ছিল। এর জন্যই সে চাকরি ছেড়ে দেয়। 

Advertisement

হিমাচলপ্রদেশে কেন যাওয়া হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তরে সে জানায়, একজন ডেকেছিল বলে সেখানে গিয়েছিলাম। তার কাছে বিশেষ কাজ ছিল। কিন্তু, কে সেই ব্যক্তি, তার উত্তর সে দেয়নি। তদন্তকারীরা তাকে জেরা করতে গিয়ে ধন্দে পড়েছেন। এক আধিকারিক বলেন, কোনও কোনও সময় সে ঠান্ডা মাথায় সব কিছুর গুছিয়ে উত্তর দিচ্ছে। আবার কোনও কোনও সময় সে অস্বাভাবিক আচরণ করছে। তার সামনে বসে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তদন্তকারীদেরও সে হেনস্তা করতে ছাড়ছে না। 
তবে সে বাবা এবং মাকে খুনের কথা অস্বীকার করছে না। সে জেরায় বলতে থাকে, মেমারির বাড়ি ‘জান্নত’ বানাতে চেয়েছিলাম। বাবা এবং মা’কে খুন করে সেই ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। ওঁরা গরিবদের সহ্য করতে পারতেন না। গরিবদের জন্য কোনও কাজ করতেন না। যদিও এলাকার বাসিন্দারা হুমায়ুনের সঙ্গে একমত নন। তাঁরা বলেন, তার বাবা এবং মা নিজেদের মতো করে থাকতেন। কখনই কারও সঙ্গে বিবাদে জড়াননি। কেউ কখনও সহযোগিতা চাইলে তাঁরা পাশে থাকতেন। তদন্তকারীদের দাবি, মগজ ধোলাইয়ের জন্যই হুমায়ুনের এই পরিণতি হয়েছে।  
ছোট থেকেই হুমায়ুনের ধর্মীয় বিষয়ে দুবলর্তা ছিল। সেই সুযোগটা পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো হয়েছে। ক্রমাগত একটি বিষয়ে ডুবে থাকার কারণেই সে স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিল। চাকরি ছেড়ে বাড়িতে আসার পর বাবা এবং মায়ের সঙ্গে মতানৈক্য তৈরি হয়। কিন্তু, পাড়ার লোকজনদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করত না। সে বেশির ভাগ সময় বাড়িতে থাকত। কোনও কোনও সময় বাবার সঙ্গে বাড়ির বাইরে বেরলে সবার সঙ্গে সে খোশ মেজাজে কথা বলত। ঘটনার দিন রাতেও সে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছিল। তদন্তকারীদের দাবি, সে কার ডাকে হিমাচলপ্রদেশে গিয়েছিল সেটা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। কী উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিল, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। হুমায়ুন সেসব নিয়ে মুখ খুলছে না। সে বিভ্রান্তমূলক উত্তর দিচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ