নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কাঁধে চাদর, মুখে মাস্ক। পুলিসের গাড়ি থেকে নামল অনেকটা হিন্দি সিনেমার খলনায়কের ঢংয়ে। ভাবটা এমনই যেন কিছুই হয়নি। মা-বাবাকে নৃশংসভাবে খুন করে বনগাঁয় ছুরি নিয়ে হামলা চালানোর ঘটনায় ধৃত হুমায়ুন কবীরকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না সে এতবড় কাণ্ড ঘটিয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে বনগাঁ থেকে বর্ধমান আদালতে নিয়ে আসা হয়। মেমারি থানার পুলিস তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট করে নিয়ে আসে। তাকে বর্ধমান জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক সাতদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এদিন আদালতে যাওয়ার সময় সে বলে, আপনারা আমাকে দোষী বলতেই পারেন। কিন্তু আমি দোষী নই। গরিবরা খেতে পাচ্ছে না। আর জিএসটি, ইনকাম ট্যাক্স নেওয়া হচ্ছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দিকে সে মারমুখী ছিল। তাকে সামনে বসিয়ে জেরা করা দায় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এখন সে অনেকটাই শান্ত। এদিন পুলিস ভ্যানে চাপিয়ে তাকে নিয়ে আসার সময় সে শান্ত হয়েই বসেছিল। তবে সে পুলিসকে বারবার বলতে থাকে, গরিবদের দেখতে হবে। ওদের জন্য কাজ করা দরকার। মা-বাবা গরিবদের সহ্য করতে পারত না বলেই তাদের মেরেছি। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, হুমায়ুনের মানসিক সমস্যা রয়েছে। এনিয়ে কোনও সংশয় নেই। কিন্তু তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কেউ মগজ ধোলাই করেছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। সে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। নামী সংস্থায় মোটা বেতনে চাকরি করত। হঠাৎ করেই তার এই পরিণতি হওয়ার কথা নয়। সাতদিনের হেফাজতে নিয়ে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জেরা করা হবে। জেরার সময় সে মিথ্যা বলছে না। তবে কোনও কোনও সময় সে অসঙ্গতিপূর্ণ কথা বলছে। সব কিছু ঠিক থাকলে তাকে দিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে। হুমায়ুন জেরায় জানিয়েছে, তার বাবা ও মা ঘরে ঘুমিয়েছিল। ঘরে ঢুকে সে প্রথমে ছুরি চালিয়ে বাবাকে খুন করে। পরে মাকে হত্যা করে। সেই ছুরি নিয়েই সে বনগাঁ চলে যায়। সেখানে এলোপাথাড়ি ছুরি চালিয়ে কয়েকজনকে জখম করে। পুলিস সেই ছুরিটি বাজেয়াপ্ত করেছে। এছাড়া বাড়ি থেকে রক্ত মাখা পোশাক, কুড়ুল, কাটারি উদ্ধার করেছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেছে। পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে তাকে মেমারিতে এনে তার বাবা এবং মা চিকিৎসা করাচ্ছিল। তারপরও সে সুস্থ হয়নি। ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকেই সে কোমরে ছুরি বেঁধে ঘুরতে থাকে। সে অনলাইনে ছুরিটি কিনেছিল। মানসিক সমস্যা থাকায় তার ছুরি নিয়ে ঘোরাটা সেভাবে কেউ আমল দেয়নি।