নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছেলে ফেল করার পর স্কুলে কথা বলতে গিয়েছিলেন উত্তরপাড়ার এক চিকিৎসক। সেখানে চিঁড়ে না ভেজায় সোমবার অভিযোগ জানান উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে। তবে, গোটা বিষয়টি সম্পূর্ণ অন্য মোড় নিয়েছে স্কুলের তরফে উত্তরপাড়া থানায় অভিযোগ জানানোয়। স্কুলের শিক্ষকদের দাবি, ওই চিকিৎসক তাঁদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি নানাভাবে অপমান করেছেন। পাশাপাশি, জোর করে ছেলের উত্তরপত্রের ছবিও তুলেছেন। যদিও, ওই ছাত্রকে পাশ করানো যায় কি না, তা দেখার জন্য সংসদের তরফে অনুরোধ করা হয়েছে বলে শিক্ষকদের দাবি। সেই অনুরোধের ভিত্তিতে তাঁরা আলোচনা করছেন। মঙ্গলবারই স্কুলের অ্যাসিস্ট্যান্ট মাস্টার ইনচার্জ এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষককে প্রশ্নপত্র এবং উত্তরপত্র সহ ডেকে পাঠায় সংসদ। সূত্রের খবর, সেখানে শিক্ষকরা প্রশ্ন ও উত্তরপত্র দেখিয়ে দাবি করেন, ছেলেটি যা পেয়েছে, অর্থাৎ সাত নম্বরের বেশি দেওয়ার কোনও অবকাশ নেই। বরং, ছবিতে কিছু বাড়তি নম্বরই দেওয়া হয়েছে। তাতে সঠিক নম্বর দিলে আরও কমে যাবে ছাত্রের নম্বর। তাঁরা এও প্রশ্ন তোলেন, যদি বায়োলজি নিয়েই আপত্তি থাকে, তাহলে বিজ্ঞানের বাকি দু’টি বিষয় ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রিতে স্রেফ ১১ পেয়েছে কেন ওই ছাত্র? তাঁদের বক্তব্য, আসলে ওই দু’টি বিষয়েও পাশ করানো হয়েছে ছাত্রকে। তবে, বায়োলজির শিক্ষক বাড়তি নম্বর দিতে চাননি বলেই সে ফেল করেছে। যদিও ছাত্রদের তরফে দেরিতে প্রশ্ন দেওয়া, ইংরেজি মাধ্যমের পরীক্ষার্থীদের বাংলা মাধ্যমের প্রশ্ন দেওয়ার মতো অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই ঘটনায় সরকারি স্কুলে ইংরেজি মাধ্যম চালুর প্রকৃত চিত্রটিও উঠে এসেছে বলে অনেকে মনে করছেন। যেখানে শিক্ষকের অভাবে ক্লাস নেওয়াই দায়, সেখানে ইংরেজি মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া তো দূর অস্ত্। সেকথা ওই স্কুলের শিক্ষকরা স্বীকারও করছেন। ওই চিকিৎসকের ছেলে ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত ছিল। অন্য বোর্ডের ইংরেজি মাধ্যম থেকে আসায় সে সমস্যায় পড়েছে, এই বিষয়গুলি মাথায় রেখে সহানুভূতির সঙ্গে এর সমাধান করা যায় কি না, তা ভেবে দেখছে স্কুলটি।



