সংবাদদাতা, বজবজ: রবিবার ষষ্ঠীর সন্ধ্যা ৭টা। বজবজের হালদারপাড়ার মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে জনাদশেক কিশোর। পরনে নতুন জামাপ্যান্ট। সকলের চোখে বিস্ময় খোলা মণ্ডপের ভিতর অসংখ্য খাঁচা দেখে। তার ভিতর পাখিরা বসে। প্রতিটি খাঁচার দরজা খোলা।
সংবাদদাতা, বজবজ: রবিবার ষষ্ঠীর সন্ধ্যা ৭টা। বজবজের হালদারপাড়ার মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে জনাদশেক কিশোর। পরনে নতুন জামাপ্যান্ট। সকলের চোখে বিস্ময় খোলা মণ্ডপের ভিতর অসংখ্য খাঁচা দেখে। তার ভিতর পাখিরা বসে। প্রতিটি খাঁচার দরজা খোলা।
কিশোরদের একজন সোমেশ তাঁর এক সাথি রবিকে বলল দেখেছিস, খাঁচার দরজা খোলা। পাখিরা বেরিয়ে যাবে না? সোমেশ ঘাড় নাড়ল। সঙ্গের আরও এক কিশোর বৃন্দাবন বলল, এটা ঠিক বুঝতে পারলাম না। তবে ভালো লাগছে। কারণ খাঁচার ভিতর পাখি থাকলে দরজা বন্ধ রাখা হয়। এই বন্দিজীবন ভালো লাগে না। খাঁচার দরজা খোলা রাখার অর্থ মুক্ত জীবন। তাই বোঝাতে এমন মণ্ডপ করেছে মনে হয়।
পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন হালদারপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সম্পাদক কৌশিক রায়। তিনি কিশোরদের কথা শুনে দাঁড়ালেন। নিজেই তাদের ডেকে বললেন, তোমরা ঠিকই ধরেছ। এখানে খাঁচা হল বন্দিজীবনের প্রতীক। মানুষ থেকে বন্যপ্রাণী সকলে এই বন্দিদশার ভিতর রয়েছে। সীমান্তের ধারে মানুষ কাঁটাতারের ঘেরাটোপে বন্দি। খাঁচার ভিতর পাখি। কিন্তু আমাদের এখানে সকলেই মুক্ত। সেই কারণেই আমাদের মণ্ডপের ভাবনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মানব বন্দি সীমান্ত বেড়ায়, মুক্ত বিহঙ্গ হালদারপাড়ায়’।
ষষ্ঠীর দিন সন্ধ্যা থেকেই এই মণ্ডপ দেখার জন্য ভিড় দেখা গেল। যদিও তা সামাল দিতে রাস্তা থেকে মণ্ডপ পর্যন্ত কুড়িটি এলইডি লাগানো হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যস্ততা দেখা গেল।
এদিন বজবজ ডি এন ঘোষ রোডের রাজমহলের রাজরানি মণ্ডপের সামনে ও ভিতরে কালো মাথার ভিড় ছিল ভালোই। কেউ কেউ সেলফি তুলছিল। ষষ্ঠীর দিন লোক সমাগম বেড়ে যাওয়ার জন্য কুইন সিনেমার মুখ থেকে মণ্ডপ প্রায় হাফ কিমি গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। মহেশতলার বিগ বাজেটের পুজো হল বাটা নিউল্যান্ড। এদিন ভোরের দিকে নিউল্যান্ডের ধবলগিরির শান্তিস্তূপ দেখার জন্য অসংখ্য মানুষ এসে হাজির হয়েছিল। ওইসময় গাড়ি চলাচলে কোনও নিষেধ ছিল না। ফলে বহু গাড়ি বাইরে থেকে এসেছিল মণ্ডপ পর্যন্ত। সন্ধ্যা থেকে ফের ভিড় বেড়ে যাওয়ার জন্য পুলিশ ঝুঁকি নেয়নি।
এক পুলিশ অফিসার বলেন, বাটা মোড় থেকে নিউল্যান্ডের বটতলা মণ্ডপে ঢোকা পর্যন্ত চারচাকা থেকে মোটরবাইক সবই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ গাড়ি ঢুকলে সামাল দিতে সমস্যা হবে। ভিড় হচ্ছে বলেই এমনটা করতে হল। এটা এখন দশমীর দিন পর্যন্ত চলবে। বজবজ, মহেশতলা, আকড়া থেকে ঠাকুরপুকুর মহেশতলা ব্লকের প্রায় সব পুজোমণ্ডপে উৎসাহীদের নজরকাড়া উপস্থিতি দেখা গিয়েছে