


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাম আমলে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের একটি পরিকল্পনার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল অনিয়মে ভরা। প্রকল্পের আগে কোনোরকম সমীক্ষা করা হয়নি। তারপর পরিকল্পনার ছত্রে ছত্রে ছিল গাফিলতি এবং ভূরি ভূরি আর্থিক অনিয়ম। ২০০৬ সালের ১২ জুলাই গঠিত হয় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তর। ঠিক তার একবছর পর, ২০০৭-এ এই দপ্তর ব্রয়লার মুরগি প্রতিপালনের একটি প্রকল্প নেয়। এজন্য পাঁচ জেলায় শেড তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দাবি করা হয় যে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানও হবে। মুরগির ছানা কেনা হবে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে। তারপর উৎপাদিত মুরগি বাজারজাত করা হবে। কিন্তু পরবর্তীকালে প্রকল্পটিতে বড়সড় গরমিল ধরা পড়ে। বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি) গত জুনে যে রিপোর্ট পেশ করেছে, তাতে বিস্তারিতভাবে বাম সরকারের আর্থিক গরমিলের তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্রকল্পের আওতায় বাঁকুড়া, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়া জেলায় ৫৪১টি মুরগি প্রতিপালনের জন্য শেড তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু দপ্তর ৫১১টি শেড তৈরির জন্য পদক্ষেপ করে। তাহলে বাকি ৩০টি শেডের কী হল? সেটা এক প্রশ্ন।
এরপর শেড তৈরির জন্য বরাদ্দ হয় ১২ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। পিএসি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, তার মধ্যে ৮ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা খরচে অনিয়ম ধরা পড়ে। ৫১১টির মধ্যে ৪৪৮টি শেড সম্পূর্ণ ফেল করে। এই শেড নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ, জল প্রভৃতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা ছিল রাজ্য সরকারের। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে প্রকল্পটি শেষমেশ বাস্তবায়িতই হয়নি। বার্ড ফ্লু প্রাদুর্ভাবের পরে ওই বেসরকারি সংস্থাটি রাজ্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে দেয়। ফলে মুরগির ছানা আর মেলেনি। চুক্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণ বা পেনাল্টির কোনও উল্লেখ ছিল না। ফলে তৎকালীন রাজ্য সরকার ওই বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে পারেনি। ফলে গোটা পরিকল্পনাটিই মুখ থুবড়ে পড়ে।
বিধানসভা পিএসি’র চেয়ারম্যান সুমন কাঞ্জিলাল বলেন, বাম সরকারের ওই প্রকল্পে কারা উপকৃত হবে, প্রকল্পটি কীভাবে এগবে, তার উপযুক্ত পরিকল্পনা ছিল না। ফলে প্রকল্পটি হারিয়েই যায় এবং আর্থিক অনিময় ঘটে। পোল্ট্রি শেডগুলিকে পুনরায় ব্যবহার করার যায় কি না, এই বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বর্তমান রাজ্য সরকারকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।