নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: পুজোর সময় বিহারে বিপুল পরিমাণ ভেজাল মদ পাচারের ছক বানচাল করল উত্তর দিনাজপুর আবগারি দফতর। টানা অভিযান চালিয়ে জেলার টুঙ্গীদিঘীতে ভেজাল মদের দু’টি ডেরার হদিশ মিলল। বাজেয়াপ্ত হল প্রায় ৩ কোটি টাকার ভেজাল মদ। উদ্ধার হওয়া ভেজাল মদের পরিমাণ ৮ হাজার ২২১ লিটার। সঙ্গে বিপুল পরিমাণে বাজেয়াপ্ত হয়েছে কয়েক হাজার লিটার কাঁচা স্পিরিট, এক হাজারেরও বেশি ছিপি, কয়েক হাজার পিস নামি ব্রান্ডের হলোগ্রাম, ফুড কালার, ফ্লেভার, ক্যারামেল, কার্টুনের মতো ভেজাল মদ তৈরির উপকরণ। ধৃত মূল অভিযুক্ত সহ ১১ জন।
আবগারি দফতর সূত্রে খবর, বেশি মুনাফার আশায় কিছু দিন ধরেই টুঙ্গিদিঘীতে এই ভেজাল মদ তৈরীর কারখানা তৈরি হয়। যার উদ্দেশ্যই ছিল পুজোর সময় বিপুল পরিমাণ ভেজাল মদের কনসাইমেন্ট বিহারের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর। কিন্তু গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আবগারি দফতর বৃহস্পতিবার রাত থেকে দফায় দফায় অভিযান চালানো হয়। প্রথমে একটি টুঙ্গিদিঘীর একটি রাইসমিলে ভেজাল কারখানার হদিশ মেলে। যেখান থেকে ৪ হাজার ৬৪০ লিটার ভেজাল মদ মেলে। সেই সঙ্গে ২ হাজার ২০০ লিটার কাঁচা স্পিরিট মেলে। হলোগ্রাম, লেবেল, পানচিং মেশিন, ক্যারামেল বাজেয়াপ্ত হয়। গ্রেপ্তার হয় ১১ জন।
এই সাফল্যের পরও থেমে থাকেনি দফতর। ধৃতদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত শঙ্কর বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও একটি ভেজাল মদের কারখানার হদিশ মেলে টুঙ্গিদিঘীতেই। সেখানেও পরের ধাপে অভিযান চালানো হয়। সেখানেও দেখা যায় রাইসমিলের গোডাউনে আস্ত ভেজাল মদ তৈরির কারখানা চলছে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ২ হাজার ৫৮১ লিটার ভেজাল মদ। এছাড়াও নামি ব্রান্ডের বোতলে প্যাকিং হওয়া অবস্থায় আরও কয়েক হাজার লিটার মদ উদ্ধার হয়। সব মিলিয়ে ৮ হাজার ২২১ লিটার ভেজাল মদ উদ্ধার হয়েছে। সেইসঙ্গে একটি ছোট লরি, তিনটি বাইক বাজেয়াপ্ত হয়েছে।