নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হু হু করে দাম বেড়েছে সোনার। বাজার মূল্য যেমন চড়া তেমনই গয়না গলিয়ে ফেললেই প্রমাণ লোপাট। আবার, একলপ্তে হাতে চলে আসে বেশকিছু নগদ টাকা। বলা যায়, ‘মারলে গণ্ডার লুটলে ভাণ্ডার’। দ্রুত লক্ষ্মীলাভের লক্ষ্যেই সোনার দোকানে কেপমারি থেকে লুটের পথ বাছছে দুষ্কৃতীরা। সাম্প্রতিক সময়ে হুগলি জেলায় কমিশনারেট থেকে গ্রামীণ পুলিসের এলাকায় বারবার সোনার দোকানে হানাদারির পিছনে ওই যুক্তিই কাজ করছে। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল থেকে পুলিস এমনকী ব্যবসায়ীরাও।
সেইসঙ্গে সোনার দোকানের কিছু বাধ্যবাধকতাও দুষ্কৃতীদের নজর কাড়ছে। গত কিছু বছরে বড় বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে ছোটখাট, মাঝারি সোনার দোকানে গয়না বিক্রির পদ্ধতি বদল হয়েছে। বর্তমানে রেডিমেড গয়না নাগরিকদের চোখের মণি। আগের মতো ক্যাটালগ দেখিয়ে পরে গড়ে দেওয়া গয়নার চল প্রায় উঠে গিয়েছে। ছোট দোকানেও তাই কিছু রেডিমেড গয়না বিক্রেতাদের রাখতেই হচ্ছে। অথচ সঠিক নিরাপত্তা বহাল করা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ক্রেতা সেজে দোকানে এসে সহজেই দু’টি সোনার চেন ছিনতাই করে নিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যাচ্ছে। তাতে ২০ মিনিটের অপারেশনে এক লক্ষ নগদ টাকা সহজেই হাতে এসে যাচ্ছে।
হুগলি জেলা স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির এককর্তা বলেন, খুব ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে দুষ্কৃতীরা। ক্রেতাদের অবিশ্বাস করলে ব্যবসা মার খাবে। আবার দোকানে রেডিমেড কিছু গয়না রাখতেই হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা শাঁখের করাতের মতো অবস্থায় পড়েছি। চন্দনগনর কমিশনারেট ও গ্রামীণ পুলিসের কর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ঘটনা যেমন ঘটেছে তেমনই কিছু ঘটনায় পদক্ষেপও হয়েছে। বেশকিছু ক্ষেত্রে লুটের সোনা উদ্ধারও করা হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিয়ে আরও কি পদক্ষেপ করা যায় তা খতিয়ে দেখা হবে। পুলিসের একটি মহলের দাবি, সাম্প্রতিক অধিকাংশ ঘটনাতেই দেখা গিয়েছে, জেলার দুষ্কৃতীরা সোনার দোকানে হামলায় বিশেষ জড়িত নয়। অন্য জেলা বা ভিন রাজ্য থেকে দুষ্কৃতীরা আসছে। তাতেও তদন্তে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এক পুলিস কর্তা বলেন, প্রতিটি সোনার দোকানভিত্তিক নিরাপত্তা বলয় গড়া কার্যত অসম্ভব। অথচ পরিস্থিতি তেমনই দাবি করছে।
চলতি বছর শুরু থেকেই লাগাতার হুগলিতে সোনার দোকানকে সফ্ট টার্গেট করে ফেলেছে দুষ্কৃতীরা। কম সময়ে বেশি লাভের লোভে দুষ্কৃতীরা একের পর এক সোনার দোকানে কখনও কেপমারি কখনও লুট করেছে। সম্প্রতি ডানকুনিতে লুটের ঘটনার পাঁচদিনের মাথায় শ্রীরামপুরে সোনার দোকানে কেপমারি হয়েছে। একাধিক ঘটনায় দুষ্কৃতীরা ধরা পড়েছে, চোরাই সোনা বাজেয়াপ্তও হয়েছে। কিন্তু বিপদ হয়েছে যে, সোনার দোকানে হানাদারিতে রাশ পড়েনি। আর তাতেই ব্যববসায়ী মহলে ভয়াবহ আতঙ্ক ও পুলিস মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।