নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের পর এবার জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম। অশোকনগর থেকে শনিবার তৈল ভাণ্ডার থেকে প্রথম দফায় ১,২০০ লিটার অপরিশোধিত তেল উত্তোলন হয়েছে। সেই আবহে এবার ঝাড়গ্রামের বিস্তৃর্ণ অঞ্চল জুড়ে আরও এক প্রাকৃতিক সম্পদ ম্যাঙ্গানিজের বিপুল ভাণ্ডারের হদিশ মিলল। বহুমূল্যের এই সম্পদের মজুতভাণ্ডারের সঠিক দিশা পেতে ভারত সরকারের একাধিক বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে নিয়ে যৌথ অনুসন্ধান সমীক্ষা শুরু করছে রাজ্য। ঝাড়গ্রামের সিমুলপাল, বেগুনডিহাসহ আশপাশের কিছু এলাকা এই সমীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। ১৫-১৯ সেপ্টেম্বর সেখানে চূড়ান্ত সমীক্ষার কাজ চলবে। ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা (জিএসআই), পশ্চিমবঙ্গ খনিজ উন্নয়ন ও বাণিজ্য নিগমসহ একগুচ্ছ সংস্থা এই খনিজ সম্পদের সম্ভাব্য ভাঁড়ারের খোঁজ চালাবে। এর মূল উদ্দেশ্য, সংশ্লিষ্ট এলাকার মাটির তলার অবস্থা, শিলার নমুনা পরীক্ষা ও ম্যাঙ্গানিজের গুণগতমান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করা। রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের পাতালে লুকিয়ে থাকা এই খনিজ ভাণ্ডারের রহস্য ভেদ হলে বাংলার ধুঁকতে থাকা অর্থনীতির মোড় ঘুরে যেতে পারে। এমনই আশাবাদী অভিজ্ঞমহল। স্থানীয় মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই এই পরিকল্পান ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, প্রাকৃতিক সম্পদের এই ভাণ্ডারের রহস্য ভেদ হলে কর্মসংস্থান সুযোগ ও জমির দামবৃদ্ধির প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই লুকিয়ে থাকা সম্ভার তৃণমূল আমলে উপেক্ষিত হয়েছিল বলেই অভিযোগ করেছে বিজেপি। রাজ্যের শাসক দলের কেন্দ্রীয় নেতা অমিত মালব্যের দাবি, বছরের পর বছর তৃণমূল সরকারের উদাসীনতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এই প্রাকৃতিক সম্পদ কার্যত মাটির তলায় চাপা ছিল। আজ বাংলার উন্নয়নে বদ্ধপরিকর বিজেপি সরকারের জমানায় অবশেষে ঝাড়গ্রামের মাটি থেকে ‘সোনা’ ফলানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।



