নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: স্থায়ী কোনও চাকরি ছিল না। উপার্জনের একাধিক উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। কোনও ভাবেই আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে না পেরে চরম মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেছিলেন বছর ৩০-এর সম্বৃত খাঁ। সম্প্রতি তিনি পৈত্রিক জমি বিক্রি করে সেই টাকা ঢেলেছিলেন নিজের অনলাইন ট্রেডিংয়ে। সেখানেও চরম ক্ষতির মুখে পড়েন। এই অবস্থায় মা-বাবাকে সম্বৃত জানান, তিনি আর বেঁচে থাকতে চান না। ছেলের এমন মানসিক অবস্থা দেখে অবসাদে ভুগছিলেন মা-বাবাও। শেষমেষ তাঁরা একসঙ্গে তিনজন আত্মঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে ঘুমের ওষুধ, তারপর কীটনাশক খেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তাঁরা। মঙ্গলবার জগাছা থানার রামরাজাতলা হাটপুকুর এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার করে পুলিস। পরবর্তী তদন্তে এমনটাই জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
মঙ্গলবার সকালে হাটপুকুরের চারতলা আবাসনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় বলরাম খাঁ (বাবা), শেলি খাঁ (মা) ও ছেলে সম্বৃত খাঁ’র দেহ। ওই দিনই সিল করে দেওয়া হয়েছিল ওই ফ্ল্যাট। বুধবার সকালে সেখানে যান ফরেনসিক টিমের সদস্যরা। নমুনা সংগ্রহ করেন। সূত্রের খবর, ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর ঘুমের ওষুধ। বিষ পান করার আগে মা, বাবা ও ছেলে অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে নিয়েছিলেন। পুলিস এদিন মৃতদের আত্মীয়-স্বজন ও সম্বৃতের বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে। তা থেকেই পুলিস জানতে পারে, জগাছা এলাকাতেই পৈত্রিক জমি ছিল খাঁ পরিবারের। সেই জমি বিক্রি করে পাওয়া টাকার কিছুটা তাঁরা খরচ করেন নতুন ফ্ল্যাট কেনার জন্য। বাকি টাকা পোস্ট অফিসে জমা করে রেখেছিলেন। পুলিসকে সম্বৃতের বন্ধুরা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই সম্বৃত পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন। তাঁদের পাঁচজনের একটি গ্রুপ ছিল। গ্র্যাজুয়েশনের পর সম্বৃত বাদে সেই গ্রুপের চারজনই প্রতিষ্ঠিত সংস্থায় চাকরি পেয়ে যান। বিয়েও করে নেন প্রত্যেকে। এসব কারণে অবসাদে ভুগছিলেন সম্বৃত। আইটি সেক্টরে একাধিক ছোটখাটো কোম্পানিতে চাকরি করার পর শেষমেষ অনলাইন ট্রেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। পোস্ট অফিসে জমা রাখা সমস্ত টাকা সম্প্রতি অনলাইন ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। ওই টাকাই কার্যত তাঁদের পরিবারের শেষ আর্থিক সম্বল ছিল। সেই টাকাও জলে যাওয়ায় চরম সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। হাওড়া সিটি পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ‘ফ্ল্যাট থেকে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। তবে এটা পরিষ্কার যে একসঙ্গে আত্নঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁরা আগেই নিয়েছিলেন।’