Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানাঘাট কলেজের নির্মীয়মাণ বহুতল থেকে খসে পড়ল বিরাট লোহার পাইপ

রানাঘাট কলেজের নির্মীয়মাণ বহুতল থেকে খসে পড়ল বিরাট লোহার পাইপ
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: এমনিতেই ‘বিতর্কিত’! তারই মাঝে রানাঘাট কলেজের নির্মীয়মাণ বহুতল থেকে জনবহুল রাস্তায় খুলে পড়ল লোহার পাইপ। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেন পথচারীরা। কেন রাস্তার দিকে ‘সেফটি নেট’ দিয়ে না ঘিরেই কাজ চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে ব্যবসায়ীরা। এদিকে, পুরসভা ওই নির্মাণকে ইতিমধ্যেই ‘অবৈধ’ দাবি করে কাজ বন্ধের নোটিসও জারি করেছে।

Advertisement

শহরের অন্যতম ‘প্রাচীন’ রাস্তা ওল্ড বহরমপুর রোডের ধারেই রানাঘাট কলেজ। প্রায় ১৪ হাজার পড়ুয়ার সাপেক্ষে কলেজের ভবন অপর্যাপ্ত। ফলে, ওল্ড বহরমপুর রোডের ধারে নতুন একটি আটতলা ভবন খাড়া করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। শনিবার রাতে কাজ চলার সময় হঠাৎই নির্মীয়মাণ ভবনটির আটতলা থেকে প্রায় ১০ফুট লম্বা একটি লোহার পাইপ খুলে জনবহুল রাস্তায় পড়ে। ব্যস্ত রাস্তায় সেই সময় ছিলেন বহু পথচারী। আশপাশে একাধিক দোকানও রয়েছে। অল্পের জন্য রক্ষা পান অনেকেই। কেবলমাত্র একজনের পায়ে সামান্য চোট লাগে। এই ঘটনার পরেই কার্যত কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে দোকানদাররা। 
তাঁদের দাবি, ওই ভবনটিতে প্রতিদিন রাতে কাজ হচ্ছে। অথচ, জনবহুল রাস্তার দিকে ‘সেফটি নেট’ দিয়ে ঘেরা হয়নি। ফলে, কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং নির্মাণকারী সংস্থার দায়বদ্ধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তথা প্রাক্তন শিক্ষক সব্যসাচী সরকার বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমি ওই রাস্তা দিয়ে হাঁটাহাঁটি করি। শনিবার ৮টা নাগাদ আচমকা একটি বড় লোহার পাইপ ঠিক আমার সামনে খসে পড়ে। সামান্য এদিক-ওদিক হলে প্রাণহানি হতো।
রানাঘাট পুরসভা জানিয়েছে, কলেজের ওই নির্মাণ ‘অবৈধ’। কারণ, পুরসভা থেকে কোনও প্ল্যান অনুমোদন নেওয়া হয়নি। জমা দেওয়া হয়নি জমির দলিল। তাছাড়া, দরপত্র না ডেকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংস্থাকে। চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই কাজ বন্ধের নোটিস জারি করেছিলাম। তা সত্ত্বেও, রাতের অন্ধকারে কাজ হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানিয়েছি। সরকারি জায়গায় সরকারি সংস্থা কাজ করছে। তাই এক্ষেত্রে পুরসভার কী পদক্ষেপ হওয়া উচিত, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে, রাস্তার দিক না ঘিরেই কাজ হচ্ছিল।
রানাঘাট কলেজের অধ্যক্ষ অরূপকুমার মাইতি বলেন, সমস্ত কাজ নিয়ম মেনে হচ্ছে। শনিবার রাতের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা ইতিমধ্যেই নির্মীয়মাণ ভবনের চারিপাশ সেফটি নেট দিয়ে ঘিরে ফেলার কাজ শুরু করেছি। নির্মীয়মাণ ভবনটি রাস্তার থেকে অনেক দূরে। পাইপ ছিটকে অতদূর চলে যেতে পারে, তা আন্দাজ করা যায়নি। নিরাপত্তার সমস্ত ব্যবস্থাই করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ