Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীঘায় সোনাবেশে জগন্নাথের পুজো দেখতে ব্যাপক ভিড়

মাসির বাড়ি থেকে ফেরার পর ভগবানের সোনাবেশ দেখতে রেকর্ড ভিড় হল দীঘায়। রবিবার তিন লক্ষের বেশি ভক্ত দীঘা জগন্নাথ মন্দির দর্শন করেছেন বলে মন্দির পরিচালন কমিটির অন্য‌তম সদস্য রাধারমণ দাস জানিয়েছেন।

দীঘায় সোনাবেশে জগন্নাথের পুজো দেখতে ব্যাপক ভিড়
  • ৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, দীঘা: মাসির বাড়ি থেকে ফেরার পর ভগবানের সোনাবেশ দেখতে রেকর্ড ভিড় হল দীঘায়। রবিবার তিন লক্ষের বেশি ভক্ত দীঘা জগন্নাথ মন্দির দর্শন করেছেন বলে মন্দির পরিচালন কমিটির অন্য‌তম সদস্য রাধারমণ দাস জানিয়েছেন। এদিন সকাল থেকে মন্দিরের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিকেলের পর মন্দিরে ঢোকার লাইন ৫০০মিটার দূরে পর্যন্ত চলে যায়। দীঘা স্টেশন পর্যন্ত ভক্তদের লাইন চলে যায়। একাদশী তিথিতে রথের মধ্যেই জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে সোনার অলঙ্কারে সাজিয়ে পুজো করা হয়। রথের চারপাশে রেলিং দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। চারপাশে মোতায়েন রয়েছে পুলিস ও এজেন্সি নিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষী। সোনাবেশে ভগবানের দর্শন পেতে রেকর্ড ভিড় হল দীঘায়।

Advertisement

গত ২৭জুন রথে চড়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা মাসির বাড়িতে গিয়েছিলেন। টানা আটদিন মাসির বাড়িতে দু’বার করে পোশাক বদল করা হয়েছে। পাঁচবার ভোগ দেওয়া হয়। মাসির বাড়িতে তিন ভাইবোন আনন্দ করে শনিবার রথে চড়ে ফের মন্দিরে ফিরে এসেছেন। কিন্তু, জগন্নাথ প্রভুর উপর একরাশ অভিমান নিয়ে গেট আগলে দাঁড়িয়ে লক্ষ্মীদেবী। কথিত আছে, তাঁকে শ্রীমন্দিরে একা রেখে মাসির বাড়িতে আনন্দ করায় এই ‘শাস্তি’। তাই দাদা ও বোনের সঙ্গে মাসির বাড়ি থেকে ফিরে এলেও তিনদিন রথের উপর বসে থাকতে হবে। যেকারণে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের সামনে পর পর তিনটি রথ রাখা হয়েছে। উপরে শামিয়ানা খাটানো হয়েছে। সেই রথে আরোহন অবস্থায় রবিবার একাদশী তিথিতে সোনার বেশে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে সাজিয়ে পুজো করা হয়। ৮জুলাই নীলাদ্রি বিজয় উৎসবের মধ্য‌঩দিয়ে তাঁরা গর্ভগৃহে প্রবেশ করবেন। পুরানের সেই গল্পকাহিনী বাস্তবের মাটিতে চাক্ষুষ করতেই বিকালের পর মন্দিরে ভক্তদের জোয়ার নামে। বিকেল ৫টা থেকে সোনাবেশে পুজো শুরু হয়। মন্দির ভিড় জমান হাজার হাজার ভক্ত।
রবিবার নদীয়ার আড়ংঘাটা থেকে কৃষ্ণপদ ঠাকুর, হুগলির ধনেখালি থেকে চন্দনা মালি সহ আরও অনেকে ভগবান দর্শনের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁরা বলেন, সংবাদ মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্দিরের ছবি দেখেছি। এখানে এসে মন্দিরের স্থাপত্য দেখে চমকে উঠেছি। ছবির থেকেও আরও সুন্দর লাগছে। রথযাত্রা মিটে যাওয়ার পর এদিন মন্দিরে প্রভুর দর্শন পেতে এসেছি। এত মানুষের ভিড় হবে কল্পনা করতে পারিনি। সকাল থেকেই দীঘার আকাশ মেঘলা। তাই ভক্তদেরও দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে অসুবিধা হয়নি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ প্রভুর সোনাবেশ দেখতে মন্দিরে যান বিদ্যুৎদপ্তরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। উল্টোরথে আসা পুলিস অফিসার ও কর্মীদের একটা বড় অংশ এখনও সুরক্ষার দায়িত্বে রয়েছে। বিপুল ভিড়ের কথা মাথায় রেখেই আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে প্রশাসন ও পুলিস। 
জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট বোর্ডের অন্যতম সদস্য রাধারমণ দাস বলেন, রবিবার প্রভুর সোনাবেশ দেখতে তিন লক্ষের বেশি ভক্ত সমাগম হয়েছিল। দুবাই থেকে দেড়শোজন ভক্ত রা঩তেই মন্দিরে এসেছেন। ভগবান দর্শনে দেশ-বিদেশের ভক্তরা আসছেন। দারুণ অনুভূতি হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ