নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ঈদের ঠিক আগেরদিন রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় বাজারে ব্যাপক কেনাকাটা চলল। ব্যবসায়ীদের মুখেও চওড়া হাসি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শুরুতে রোদ ও তারপর বৃষ্টির জেরে বাজারে কেমন ভিড় হবে তা নিয়ে চিন্তা ক্রমশ বাড়ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন বাজার চাঙ্গা রয়েছে। অনলাইন মার্কেটিংয়ে ঝোঁক বাড়লেও এদিন সিউড়ি শহরের কোর্টবাজার ও টিন বাজারের ব্যবসায়ীদের নাওয়া খাওয়ার ফুরসত ছিল না। জামাকাপড় থেকে শুরু করে প্রসাধনী সামগ্রী সহ জুতোর দোকানগুলিতে সকাল থেকেই ক্রেতাদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। বিকেলের পর দোকানগুলিতে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
রমজান মাস শুরুর আগেই ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের পোশাকের সম্ভার নিয়ে পসরা সাজিয়েছিলেন। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানগুলিও সেজে উঠেছিল। তবে শুরু থেকেই টানা রোদের জেরে ব্যবসায়ীরা চিন্তায় পড়েছিলেন। বাজার একপ্রকার ফাঁকাই ছিল। এরপর আবার টানা দু’দিন বৃষ্টির জেরে প্রায় প্রতিটি বাজার ভিড় ছিল না বললেই চলে। এতে ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছিল। ক্ষতির আশঙ্কায় প্রহর গুনতে শুরু করেছিলেন সকলেই। যদিও বৃষ্টি শেষে আবহাওয়া খানিকটা স্বাভাবিক হতেই ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ে বিভিন্ন দোকানে। শপিং মল, অনলাইন মার্কেটিং সত্ত্বেও শহরের স্থানীয় দোকানে ভিড় দেখা যায়। নতুনত্বের হাতছানিতে অনেকেই অনলাইন শপিংয়ের প্রতি আগ্রহ দেখালেও দোকানে গিয়ে কাপড় দেখে পোশাক কেনার সুযোগ ছাড়তে চাননি। স্বাভাবিকভাবেই শেষ ছুটির দিনেও এদিন বাজার জমজমাট ছিল। আশানুরূপ ব্যবসা হওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীরাও।
এবছর ছেলেদের পোশাকে হিট ছিল পপকর্ন শার্ট, ব্যাগি প্যান্ট ও কার্গো প্যান্ট। অন্যদিকে মেয়েদের ক্ষেত্রে লং গাউন ও বাচ্চাদের জন্য ডান্সিং ফ্রকের চাহিদা তুঙ্গে ছিল। ব্যবসায়ী মহম্মদ সরতাজ আলম বলেন, এবার আশানুরূপ ব্যবসা হয়েছে। তবে প্রথমে খানিকটা চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু শেষ অবধি লাভের মুখ দেখতে পেয়েছি। সামনেই পয়লা বৈশাখের বাজার রয়েছে। তার প্রস্তুতি শুরু চলছে। আর এক ব্যবসায়ী আনন্দ কুণ্ডুও একই কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুশ্চিন্তা কাটিয়ে ভালো ব্যবসা করেছি। ক্রেতা সহিদুল শেখ বলেন, প্রথমদিকে শপিং মলে গেলেও শেষ অবধি শহরের স্থানীয় দোকানই আমাদের ভরসা। দোকানে বসে জামা-কাপড় দেখে দামদর করে কেনার মজাটাই আলাদা। সেটা মিস করতে চাইনি।
সিউড়ি শহরের বাজারে আসা যুবক রকি শেখ বলেন, অনলাইনে বেশকিছু কেনাকাটা করেছি। তবে ছোট থেকেই দোকান থেকে পোশাক কিনতে অভ্যস্ত। তাই অনলাইন শপিংয়ের পরও দোকানে এসেছি কেনাকাটা করতে। এদিন সন্ধ্যায় প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানেও ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। মূলক যুবতীরাই পছন্দের জিনিসপত্র কেনেন।