Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাতির স্নান দেখা, সাফারির সুযোগ মিলছে না, সাড়া নেই ধূপঝোরা বনবাংলো বুকিংয়ে

হাতির স্নান দেখা, সাফারির সুযোগ মিলছে না, সাড়া নেই ধূপঝোরা বনবাংলো বুকিংয়ে
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বলা হয়েছিল পর্যটকরা আগের মতোই মূর্তি নদীতে হাতির স্নান দেখতে পারবেন। হাতির সঙ্গে সেলফিও তুলতে পারবেন। কিন্তু এখনও তা চালু করতে পারেনি বনদপ্তর। ফলে দীর্ঘদিন পর ধূপঝোরা বনবাংলো চালু হলেও তা বুকিংয়ে একেবারেই সাড়া নেই। 
Advertisement
২ ডিসেম্বর থেকে গোরুমারার অধীন ধূপঝোরা, কালীপুর ও মৌচুকি বনবাংলো খুলে দেওয়া হয়েছে পর্যটকদের জন্য। ধূপঝোরায় মেঘলাল, শিলাবতী, সূর্য, হিলারি, ডায়না ও চন্দন ছ’টি বনবাংলো রয়েছে। অথচ দেখা যাচ্ছে, ২ ডিসেম্বর থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত সবমিলিয়ে মাত্র ১০টি ঘর বুকিং হয়েছে। একইসঙ্গে ধূপঝোরা গাছবাড়ি চালু না হওয়ায় চরম হতাশ পর্যটকরা। ২০১২ সালে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাত্রিবাস করেন গাছবাড়িতে। কিন্তু সেটি বেহাল হয়ে পড়ে থাকায় ক্ষুব্ধ পর্যটকরা। তাঁদের সবচেয়ে বেশি আক্ষেপের কারণ, অতীতে যেসব পর্যটক ধূপঝোরা বনবাংলোয় থাকতেন, তাঁদের জন্য হাতি সাফারির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার থাকত। কিন্তু এখন সেই সুযোগ মিলছে না। বাইরে বেসরকারি রিসর্টে যাঁরা থাকছেন, তাঁরা এসে সকাল-বিকেল ধূপঝোরা থেকে হাতি সাফারি করে চলে যাচ্ছেন, অথচ এখানে বনবাংলোয় যাঁরা থাকছেন, তাঁদের আফশোস করা ছাড়া কিছুই থাকছে না। এনিয়ে বনদপ্তরের অবশ্য সাফাই, হাতি সাফারি অনলাইনে বুকিং হচ্ছে। ফলে সেক্ষেত্রে তাদের কিছু করার নেই। যদিও পর্যটকদের বক্তব্য, ধূপঝোরা বনবাংলো বুকিং হচ্ছে অফলাইনে। কিন্তু হাতি সাফারির জন্য টিকিট কাটতে হবে অনলাইনে! আর অনলাইনে তো সচরাচর হাতি সাফারির টিকিট মিলবে না। তাহলে বনবাংলোয় থেকে লাভ কী? গোরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের সহকারী বনাধিকারিক রাজীব দে বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বনবাংলোগুলি এমাসেই চালু হয়েছে। তাছাড়া এখনও শুধু অফলাইনে বুকিং হচ্ছে। ধীরে ধীরে বুকিং বাড়বে বলে আমাদের আশা। আর মূর্তি নদীতে পর্যটকরা যাতে হাতির স্নান দেখতে পারেন কিংবা হাতির সঙ্গে সেলফি তুলতে পারেন, সেজন্য উপর মহলে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার টাকি থেকে ধূপঝোরা বনবাংলোয় এসেছিলেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। বললেন, আমি আটবছর আগে ধূপঝোরা বনবাংলোয় এসে থেকে গিয়েছি। তখন সবটা দারুণ সাজানো ছিল। এখন গাছবাড়ি বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে দেখে খুবই খারাপ লাগল। ওই পর্যটকের কথায়, লাটাগুড়িতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে অফলাইনে ধূপঝোরা বনবাংলো বুক করি। কিন্তু আগের মতো এখন আর কিছুই নেই। বনবাংলোয় যেসব পর্যটক থাকবেন, তাঁদের যদি হাতি সাফারির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া না হয় কিংবা মূর্তি নদীতে হাতির স্নান দেখতে না দেওয়া হয়, তাহলে সারাদিন পর্যটকরা এখানে থেকে কী করবেন? বনকর্মীরাও স্বীকার করেছেন, কালীপুর বনবাংলোয় যাঁরা থাকছেন, তাঁরা তাও ১২০০ টাকা রুম বুকিংয়ের মধ্যেই প্যাকেজ হিসেবে মেদলা ওয়াচ টাওয়ারে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু ধূপঝোরা বনবাংলোয় যাঁরা থাকছেন, তাঁদের জন্য সারাদিন কোনও অ্যাক্টিভিটি থাকছে না।
সম্পর্কিত সংবাদ