সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে বর্তমানে হাতির সংখ্যা প্রায় ৬৫০। সংকোশ থেকে তিস্তা হয়ে মেচি পর্যন্ত এই বিরাট এলাকায় তাদের বিচরণ। এরই মাঝে ফসলের খেত, চা বাগান। সংঘাত, মৃত্যু। একটি হাতির দল মূলত স্ত্রী প্রধান। সেই যূথনেত্রী। দলে কয়েকটি হস্তীশাবক নিয়ে তাদের চলাচল। খাদ্য অন্বেষণ, জলের খোঁজ, নিরাপত্তা, পথ চেনা সহ সব কাজই অত্যন্ত সর্তকতার সঙ্গে তাদের করতে হয়। এরই মাঝে নেমে আসে বিপদ। শাবকের চা বাগানের চৌবাচ্চায় আটকে পড়া, গর্তে পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটে। জঙ্গলের মধ্যে এদিকে ফেনসিং, ওদিকে বসবাস, সেদিকে চা বাগান! কোন পথে যাবে ওরা?
Advertisement
এসবের মধ্যেও বনদপ্তর করিডর ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের অধীনে চা গাছ উপড়ে সেখানে পুরনো সময়ের মতো জঙ্গল গড়ে তুলে দু’টি করিডরকে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এই প্রস্তাব কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বনদপ্তরের হিসেব অনুসারে উত্তরবঙ্গে হাতির ১৪টি মূল করিডরের মধ্যে দু’টি জায়গাকে নির্বাচন করা হয়েছে। একটি জলদাপাড়া সংলগ্ন দলসিং পাড়া ও অন্যটি তিতি-রেতি করিডর। প্রকল্প অনুমোদন হলে এই দুই জায়গার ক্ষেত্রেই চা বাগানের মালিক পক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই সবকিছু করা হবে বলে বনদপ্তর জানিয়েছে।
কিন্তু জনবসতি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে এই উদ্যোগ ব্যাপক আকারে না হলে স্থানীয়ভাবে কিছুটা লাভ হলেও সমস্যা একেবারে নির্মূল করা যাবে না। কারণ দীর্ঘদিনের উপেক্ষা, নজর ঘুরিয়ে রাখা, সব বুঝেও চুপ করে থাকার হীন রাজনীতির কারণেই উত্তরের এই প্রশান্ত অরণ্যাঞ্চলে মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাত বেড়েছে। এখনও উত্তরের জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় মানুষের বসবাসের জন্য অত্যাধুনিক বহুতল, নয়নাভিরাম রিসর্ট গড়ে উঠছে। বনদপ্তরের সদিচ্ছা থাকলেও কর্মী সংখ্যা কম থাকা থেকে শুরু করে মানুষের সচেতনতা সবকিছুই তাদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। কিন্তু সবকিছু শেষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জায়গাটাই আশার আলো দেখায়। আর মানুষের সেই আশা স্বপ্নের লড়াই থেকেই হয়ত একদিন এই অরণ্য, এই নদী, এই দেশ আবার গহীন হবে, সজল হবে।
উত্তরবঙ্গের চিফ কনজারভেটর অফ ফরেস্ট (বন্যপ্রাণ) ভাস্কর জেবি বলেন, হাতির করিডর বাদে যে সব জায়গায় হাতি বাইরে আসতে পারে, তেমন বহু জায়গায় আমরা ফেনসিং করেছি। হাতির করিডরে যেসব এলাকায় চা বাগান পড়েছে, এমন কিছু জায়গায় ক্যুইক রেসপন্স টিম বানানো হয়েছে। করিডর ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের মাধ্যমে সেটি কেন্দ্রে যাবে। ফান্ডিং-এর বিষয়ও দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকও হয়েছে।
কিন্তু জনবসতি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে এই উদ্যোগ ব্যাপক আকারে না হলে স্থানীয়ভাবে কিছুটা লাভ হলেও সমস্যা একেবারে নির্মূল করা যাবে না। কারণ দীর্ঘদিনের উপেক্ষা, নজর ঘুরিয়ে রাখা, সব বুঝেও চুপ করে থাকার হীন রাজনীতির কারণেই উত্তরের এই প্রশান্ত অরণ্যাঞ্চলে মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাত বেড়েছে। এখনও উত্তরের জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় মানুষের বসবাসের জন্য অত্যাধুনিক বহুতল, নয়নাভিরাম রিসর্ট গড়ে উঠছে। বনদপ্তরের সদিচ্ছা থাকলেও কর্মী সংখ্যা কম থাকা থেকে শুরু করে মানুষের সচেতনতা সবকিছুই তাদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। কিন্তু সবকিছু শেষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জায়গাটাই আশার আলো দেখায়। আর মানুষের সেই আশা স্বপ্নের লড়াই থেকেই হয়ত একদিন এই অরণ্য, এই নদী, এই দেশ আবার গহীন হবে, সজল হবে।
উত্তরবঙ্গের চিফ কনজারভেটর অফ ফরেস্ট (বন্যপ্রাণ) ভাস্কর জেবি বলেন, হাতির করিডর বাদে যে সব জায়গায় হাতি বাইরে আসতে পারে, তেমন বহু জায়গায় আমরা ফেনসিং করেছি। হাতির করিডরে যেসব এলাকায় চা বাগান পড়েছে, এমন কিছু জায়গায় ক্যুইক রেসপন্স টিম বানানো হয়েছে। করিডর ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের মাধ্যমে সেটি কেন্দ্রে যাবে। ফান্ডিং-এর বিষয়ও দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকও হয়েছে।



