নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পুজোর মরশুম চলছে। তার মধ্যেই হাতির আতঙ্কে ভুগছে একাধিক গ্রামের মানুষ। শুধু মেদিনীপুর ডিভিশন এলাকায় ৮৯টি হাতি রয়েছে। হাতিগুলি বিক্ষিপ্তভাবে নানা জঙ্গলে ছড়িয়ে থাকায় গ্রামবাসীদের মনে আতঙ্ক বাড়ছে। এক গ্রামবাসী বলেন, আর কয়েকদিন পর থেকেই ধান কাটা শুরু হবে। হাতি এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় যাওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষিরা ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। একইসঙ্গে হাতির ভয়ে সন্ধ্যার পর ঠাকুর দর্শন করতে যেতেও ভয় পাচ্ছেন গ্রামাবাসীরা। এদিন শালবনী এলাকার বাসিন্দা সঞ্জীব দাস বলেন, হাতির সমস্যার সমাধান আর হচ্ছে না। রাতের অন্ধকারে জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে যেতে ভীষণ ভয় করে। যে কোনও সময় হাতি হামলা করতে পারে। এছাড়া ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হলে, ক্ষতিপূরণ সময়মতো মেলে না। প্রসঙ্গত, বাম আমলে মাওবাদী আন্দোলনের জেরে প্রায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল জনজীবন। সাধারণ মানুষ সন্ধের পর ঘর থেকে বের হতেন না। আতঙ্ককে সঙ্গী করেই প্রত্যেকে জীবন কাটাত। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ফের ছন্দে ফেরে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী সহ অন্যান্য এলাকা। তবে বর্তমানে হাতির সমস্যা প্রশাসনের কাছে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাতির হানার জেরে মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁদড়া, পিরাকাঁটা রেঞ্জ এলাকায় সবচেয়ে বেশি হাতি রয়েছে। হাতিগুলি ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন জঙ্গলে থাকছে। ফলে, জঙ্গল থেকে বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতে যেতে পারছেন না গ্রামবাসীরা। শুধু জয়নারায়ণপুর এলাকায় ১৩টি হাতি রয়েছে। তবে রূপনারায়ণ বনবিভাগ এলাকায় হাতির সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। এখানে ২টি হাতি রয়েছে। বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, হাতিগুলি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।



