Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হেতমপুরের গৌড়ীয় মঠে ভক্তদের বনভোজনে শামিল জগন্নাথ, শ্রীকৃষ্ণ

হেতমপুরের গৌড়ীয় মঠে ভক্তদের বনভোজনে শামিল জগন্নাথ, শ্রীকৃষ্ণ
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, সাঁইথিয়া: এ যেন অন্য বনভোজন। ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনে দুবরাজপুরের হেতমপুরের গৌড়ীয় মঠের বনভোজনের ভিড় জমান ভক্তরা। ভক্তদের সঙ্গে বনভোজনের জন্য মন্দির থেকে নিয়ে আসা হয় প্রভু জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা, সঙ্গে আনা হয় শ্রীকৃষ্ণ গোপালজি ও বনমালীর মূর্তিকে। বুধবার বছরের প্রথম দিনে দুবরাজপুরের হেতমপুর গৌড়ীয় মঠ সংলগ্ন জঙ্গলে (জগন্নাথ উদ্যানে) এই বনভোজনের আয়োজন করা হয়। প্রাচীন কাল থেকে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে বনভোজনের এই রীতি প্রচলিত রয়েছে। বীরভূমের হেতমপুরের গৌরাঙ্গ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন মহারাজ শ্রীরামরঞ্জন চক্রবর্তী। প্রাচীনকালে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বনভোজনের রীতি প্রচলিত রয়েছে। কালের নিয়মে সেই রাজাও নেই, রাজত্বও নেই। বহু বছর ধরে এই বনভোজনের অনুষ্ঠান বন্ধ ছিল। গৌরাঙ্গ মঠ এই মন্দিরের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ফের রীতি মেনে শুরু হয় বনভোজনের অনুষ্ঠান। বর্তমানে জাঁকজমকভাবে এই অনুষ্ঠান পালিত হয়। বনভোজনে মূলত চার রকমের পদ থাকলেও ভক্তদের দেওয়া নানান পদে ভোগের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়তেই থাকে। মূল চার রকম পদের মধ্যে সাদা অন্ন, পুষ্পান্ন, খিচুড়ি, পরমান্ন। এছাড়াও থাকে নানান ধরনের মিষ্টি। একেবারেই রাজকীয়ভাবে ভোগ নিবেদন করা হয়। 
Advertisement
বুধবার দুপুরে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র হরিনাম সংকীর্তনের মধ্যে দিয়ে জাঁকজমকভাবে মূল মন্দির থেকে বিগ্রহগুলিকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় মন্দির সংলগ্ন জগন্নাথ উদ্যানে। দিনভর সেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালিত হয়। বছরের প্রথম দিনে অন্যরকম বনভোজনে যোগ দিতে দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন। এদিনের অনুষ্ঠান শেষে বিকেলের পর আবারও মূল মন্দিরে নিয়ে আসা হয় বিগ্রহগুলিকে। এ বিষয়ে হেতমপুর গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ বারাদী ত্রিদণ্ডী মহারাজ বলেন, আমরা ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনে প্রতিবছরের মতো এ বছরও প্রভু জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা শ্রীকৃষ্ণ, গোপালজি, বনমালীর বিগ্রহ নিয়ে নগর সংকীর্তনের পর বনভোজনের আয়োজন করেছি। ভক্তদের দেওয়া জিনিসপত্র দিয়ে এদিনের বনভোজনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রভুরা আবার মন্দিরে ফিরে আসেন।
সম্পর্কিত সংবাদ