নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ফের এক ডাক্তারের রহস্যমৃত্যু। এবার ঘটনাস্থল ঝাড়গ্রাম শহরের এক হোটেল। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের একটি হোটেলের পাঁচতলার ঘর থেকে উদ্ধার হয় চিকিৎসক দীপ্র ভট্টাচার্যের (২৯) দেহ। ঘর থেকে দুটো সিরিঞ্জ ও একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে। পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মৃত ওই চিকিৎসক ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত ছিলেন। কলকাতার বড়িশার বাসিন্দা দীপ্র আর জি কর হাসপাতাল থেকে অ্যানাস্থেশিয়ায় এমডি করেন। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক হিসেবে গত এক বছর দু’ মাস ধরে কর্মরত ছিলেন। হাসপাতালের আরও দুই চিকিৎসকের সঙ্গে শহরের নামী ওই হোটেলে ভাড়া থাকতেন তিনি। ছুটিতে কয়েকদিনের জন্য বাড়ি গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে ট্রেনে করে ঝাড়গ্রামে আসেন। সেদিন দুপুরের পর থেকেই তাঁর ফোন সুইচড্ অফ ছিল। হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক হোটেলে এসে তাঁর খোঁজ করেন। কিন্তু তাঁর সাড়া না মেলায় এবং ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় হোটেল কর্মীদের সহায়তা নিয়ে দরজা ভাঙা হয়। দেখা যায়, ঘরের ভিতর বিছানায় দীপ্রর দেহ পড়ে রয়েছে। ঝাড়গ্ৰামের অ্যাডিশনাল এসপি সৈয়দ এম এম হাসান, এডপিও শামিম বিশ্বাস ঘটনাস্থলে ছুটে যান। দেহ উদ্ধার করে ঝাড়গ্ৰাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। অ্যাডিশনাল এসপি সৈয়দ এম এম হাসান সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান, হোটেলের ঘরের দরজা ভেঙে দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রুম থেকে দুটো সিরিঞ্জ ও একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। এদিন দুপুরে হোয়াটসঅ্যাপ স্ত্রীকে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন দীপ্র। সেখানে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, মানসিক ও কর্মক্ষেত্রের নানা বিষয়ে বক্তব্য ছিল। তদন্তে এই মেসেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হাসপাতালে দীপ্রর সহকর্মী ও বন্ধু অনুরাগ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি। পড়াশোনাও একসঙ্গে। কাজের জগতও এক জায়গায় ছিল। শহরের হোটেলের রুমে তিনজন চিকিৎসক মিলে ভাড়া থাকতাম। এদিন সকালে কলকাতা থেকে ঝাড়গ্ৰামে ফিরেছিল ও। বারোটার দিকে চিকিৎসকদের একটি গ্ৰুপে ও একটি পোস্ট করে। সেই পোস্ট দেখে ওর স্ত্রী সুস্মিতা ভট্টাচার্য আমাকে জানায়। আমি সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে কয়েকজন সহকর্মীকে খোঁজ নিতে বলি। হোটেল এসে ওরাই খোঁজখবর করে। দরজা ভেঙে দেহ উদ্ধার হয়। আর জি কর কাণ্ড নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল দীপ্র।



