সংবাদদাতা, বোলপুর: রঙিন উৎসবের মধ্যে দিয়ে পুরনোকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাল সারা বিশ্ব। মঙ্গলবার ৩১ডিসেম্বরের সন্ধ্যা থেকেই বর্ষশেষ ও বর্ষবরণ উৎসবে মেতে ওঠেন সকলে। তবে মাত্রাছাড়া উন্মাদনা রুখতে এবার সচেষ্ট জেলা প্রশাসন। বর্ষবরণের রাতে বিনা অনুমতিতে হোটেল রিসর্টে মদের আসর বসালে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিল আবগারি দপ্তর। মূলত, এই অনুমতির জন্য সরকারকে রাজস্ব দিতে হয়। কিন্তু মোটা টাকা হওয়ার কারণে অনেকেই সেই কর ফাঁকি দেয় বলে অভিযোগ। তেমনটা হলে হোটেল বা রিসর্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইন মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আবগারি দপ্তর। এজন্য জরিমানা ও হাজতবাস, এমনকী দুয়েরই বিধান রয়েছে। তাই বর্ষশেষের পাশাপাশি বর্ষবরণের রাতেও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালাবে আবগারি দপ্তর।
Advertisement
বেশ কয়েক বছর ধরেই ইংরেজি বর্ষশেষ ও বর্ষবরণ উদযাপনের হিড়িক পড়েছে। মূলত, পিকনিক ও পার্টির মাধ্যমে সকলে আনন্দে মেতে ওঠেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আতসবাজি প্রদর্শনী তো থাকেই, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মদ্যপানই উদযাপনের মূল বিষয় হয়ে ওঠে। বিলাসবহুল হোটেলগুলিতে বিশাল আকারে গান-বাজনা, আলোর রোশনাইয়ে জলসার আয়োজন করে। মেতে ওঠেন পর্যটকরা। সেখানে রঙিন জলে গলা ভেজানো চলে। আজ, বুধবার ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অনেক হোটেল ও রিসর্ট ‘নিউ ইয়ার সেলিব্রেশন’ আয়োজন করেছে। সেই আসরে মদ মানেই দ্বিগুণ উন্মাদনা। ভিড়ও উপচে পড়ে। তবে প্রকাশ্যে তা করার জন্য লাগে বৈধ অনুমতি। আবগারি দপ্তরের তরফে সাময়িকভাবে অনুমোদন দেওয়ার বিধানও রয়েছে। এজন্য মোটা টাকা দিতে হয়। আবগারি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সর্বোচ্চ তিন দিন পর্যন্ত এই অনুমতি দেওয়া হয়। তাতে প্রতিদিন ২০হাজার টাকা রাজস্ব দিতে হয়। সেকারণে অনেকেই বিনা অনুমতি নিয়ে এই আসর বসায় বলে অভিযোগ। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিতে অনেক রিসর্ট ও হোটেল মালিক অনুমতি নেন না। সেকারণে এবার বর্ষশেষের পাশাপাশি বর্ষবরণেও বিভিন্ন হোটেল ও রিসর্টে অভিযান চালাবে আবগারি দপ্তর। সেখানে অবৈধ মদের আসর বসলেই আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা আবগারি বিভাগের সুপারিন্টেন্ডেন্ট একলব্য চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এবছর বীরভূমে একটিমাত্র রিসর্ট এজন্য অনুমতি নিয়েছে। তাই জেলার সব প্রান্তের হোটেল-রিসর্ট নজরে রাখা হয়েছে। অবৈধ কারবার দেখলেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



