Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হোটেল ও মেসে অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের

হোটেল ও মেসে অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: হোটেল, মেসে, স্কুলের ও কলেজের মেয়েদের অবাধ যৌন সম্পর্ক। তাই সম্ভ্রান্ত পরিবারেও লাফিয়ে বাড়ছে এইডস সংক্রমণ। বহু ক্ষেত্রেই যৌনপল্লির দালালদের খপ্পরে পড়ছে ছাত্রীরা। উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিসকে চিঠি দেবে স্বাস্থ্যদপ্তর। পশ্চিম বর্ধমান জেলায় প্রতি বছর ২০০-২৫০জন নতুন এইডস আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলছে। আশঙ্কা, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। এইডসের পাশাপাশি গনোরিয়া, সিফিলিসের মতো যৌন রোগ বাড়ছে শিল্পাঞ্চলে। রবিবার বিশ্ব এইডস দিবসে আসানসোল থেকে দুর্গাপুর, সচেতনতা কর্মসূচিতে জোর দিল স্বাস্থ্যদপ্তর। অভিভাবকদেরও বাড়তি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য‌দপ্তরের আধিকারিকরা। 
Advertisement
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস বলেন, বিভিন্ন হোটেল ও মেসে ছাত্রীরাই অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। ভবিষ্যতে তারা এইডসের মতো মারণ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তার থেকেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। আমরা পুলিসকেও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করব। জেলায় তিন হাজারের মতো এইডস রোগীর রয়েছেন। প্রতি বছর এই সংখ্যা বাড়ছে। 
আসানসোল-দুর্গাপুর দক্ষিণবঙ্গের দুই আধুনিক শহর। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের একাংশ রঙিন জীবনযাপনে অভ্যস্ত। হোটেল-রেস্তরাঁ বা বারে মহিলাদের সিগারেট, মদ খাওয়ার স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে এসেছে। বহু ক্ষেত্রেই বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে গিয়ে পকেটমানিতে টান পড়ছে। তখনই দামী সামগ্রী কেনার চাহিদা মেটাতে ভুল পথে পা দিচ্ছে পড়ুয়াদের একাংশ। কখনও হোটেলে কোথাও আবার একাধিক ছাত্রী মিলে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকা ঘরেই অবাধ যৌন সম্পর্ক  হচ্ছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের হাতে এসেছে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য। দুর্গাপুর ও আসানসোলের নিয়ামতপুরে যৌনপল্লিতে ধারাবাহিকভাবে এইডস নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের স্বাস্থ্যকর্মী ও আধিকারিকরা। তাঁরা জেনেছেন, সেখান থেকেও কাস্টমাররা চলে যাচ্ছে কলেজ ছাত্রীদের নিরাপদ আস্তানায়। এক্ষেত্রে যোগাযোগের মাধ্যম যৌনপল্লির দালালদের একাংশ। 
বর্তমানে গর্ভবতী মহিলাদের সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য আনলেই এইচআইভি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। সেখান থেকেই সামনে আসছে কীভাবে বিভিন্ন পরিবারের মধ্যে এই মারণ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অচিরেই এই রোগ এত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্যদপ্তর। কারণ যৌনপল্লির নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দপ্তরের কাছে থাকে। এক্ষেত্রে হোটেল, মেসগুলিতে অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক চললে, তা নিয়ন্ত্রণ করা স্বাস্থ্যদপ্তরের পক্ষে কঠিন। তাই পুলিসের দ্বারস্থ হচ্ছে তারা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় পুরুষ যৌনকর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। যাদের মাধ্যমে এই রোগ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি গনোরিয়ার মতো রোগও ছড়িয়ে পড়ছে। 
এইডস নিয়ে ডিসেম্বর মাসজুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি নিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। রবিবার আসানসোলের নিয়ামতপুর ও দুর্গাপুরের যৌনপল্লিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা হয়। সচেতনতা কর্মসূচি হয় আসানসোল বাসস্ট্যান্ডে। সোমবার জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের অফিস থেকে বেসরকারি স্কুলগুলি পর্যন্ত সচেতনতা র‌্যালি করবেন চিকিৎসকরা। আসানসোল জেলা হাসপাতালেও এনিয়ে র‌্যালি করা হবে। দু’টি নাটকের দল ১১ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন জনবহুল জায়গায় সচেতনতামূলক নাটক করবে।
সম্পর্কিত সংবাদ