Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হঠাত্ বন্ধ নিয়োগপত্র দেওয়ার কাজ, ক্ষুব্ধ হবু প্রধান শিক্ষকরা  

হঠাত্ বন্ধ নিয়োগপত্র দেওয়ার কাজ, ক্ষুব্ধ হবু প্রধান শিক্ষকরা
 
  • ১১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, পতিরাম: ১২ বছর পর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় শুরু হয়েছিল প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া। প্রার্থীদের কাগজপত্র ভেরিফিকেশনও হয়ে গিয়েছে। শুক্রবার থেকে নিয়োগপত্র দেওয়ার কথাও ছিল। নিয়োগপত্র সংগ্রহ করতে বালুরঘাটে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা সংসদে সকাল সকাল পৌঁছে যান বিভিন্ন ব্লকের এসআই সহ অন্য আধিকারিকরা। এসআই অফিসে অপেক্ষায় ছিলেন হবু প্রধান শিক্ষকরাও। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও হতাশ হয়ে ফিরলেন তাঁরা। পরে জানানো হয়, শুক্রবার নিয়োগপত্র দেওয়া হবে না। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের যুক্তিপূর্ণ উত্তর নেই। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান সন্তোষ হাঁসদার দাবি, কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে নিয়োগপত্র দেওয়ার কাজ আপাতত স্থগিত রাখা হল। 
Advertisement
তবে প্রধান শিক্ষকদের নিয়োগপত্র দেওয়ার কাজ স্থগিত রাখার পিছনে তৃণমূলের কোন্দল রয়েছে বলে দাবি নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির। সংগঠনটির জেলা সম্পাদক শঙ্কর ঘোষের দাবি, তৃণমূলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতাদের পছন্দের শিক্ষক পছন্দের স্কুলে জায়গা না পাওয়ায় মতবিরোধ চরমে। সেই কারণে চাপের মুখে পড়ে অবশেষে এই নিয়োগপত্র দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন আগেই  প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হন দুজন। এটাও একটা কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।
যদিও ডিপিএসসি চেয়ারম্যানের দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল বা অন্য কোনও সমস্যা নেই। আমি বাইরে রয়েছি। বালুরঘাটে ফিরেই নিয়োগপত্র দেওয়ার কাজ শুরু করব। 
শিক্ষা সংসদ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে ৮০০ শিক্ষকের প্যানেল বেরিয়েছে। প্যানেল ধরে ধরে শুক্রবার থেকে নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা ছিল। এসআই অফিসগুলিতে অনেক শিক্ষক নিয়োগপত্র নিতে জড়ো হয়েছিলেন। অনেক শিক্ষকই পুরনো স্কুল থেকে রিলিজ নিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু আচমকা এই নিয়োগপত্র দেওয়ার কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক বলেন, তৃণমূলের অন্তর্কলহের জেরে এই নিয়োগ বন্ধ হয়ে গেল। দলীয় সূত্রে খবর, তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ডিপিএসসি চেয়ারম্যানের মতবিরোধেই এমনটা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর শুনেই ডিপিএসসি অফিসে আসেন তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের নেতারা। বালুরঘাট সদর তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি সুশান্ত সরকার বলেন, এখানে তৃণমূলের কোনও গোষ্ঠীকোন্দল নেই। নিয়োগপত্র দেওয়ার কাজ বন্ধ হওয়ায় আমরা দুঃখিত। আশা করছি, চেয়ারম্যান ফিরলেই নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ