Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হঠাৎ পেটে ব্যথা, মৃত্যু মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর, জলপাইগুড়িতে শোকস্তব্ধ পরিবার

হঠাৎ পেটে ব্যথা, মৃত্যু মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর, জলপাইগুড়িতে শোকস্তব্ধ পরিবার
  • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আচমকা অসুস্থ হয়ে ভর্তি হাসপাতালে। মৃত্যু মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর। মৃতের নাম অভিজিৎ রায় (১৫)। বাড়ি ময়নাগুড়ির রামসাইয়ের উত্তর কালামাটি এলাকায়। বুধবার সকালে জলপাইগুড়ি শহরের একটি নার্সিংহোমে মৃত্যু হয় ওই পরীক্ষার্থীর। এ ঘটনায় ওই ছাত্রের পরিবারের পাশাপাশি তার স্কুলের শিক্ষকরাও শোকস্তব্ধ। ছাত্রের মৃত্যুর খবর পেয়েই এদিন সকালে নার্সিংহোমে চলে আসেন চ্যাংমারি হরেন্দ্রনাথ হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক রাঘবানন্দ বর্মন। ওই স্কুলেরই ছাত্র ছিল অভিজিৎ। তার মাধ্যমিকের সিট পড়েছিল আমগুড়ি রামমোহন হাইস্কুলে।
Advertisement
মৃত ছাত্রের বাবা সদরু রায় এদিন নার্সিংহোম চত্বরে দাঁড়িয়ে বলেন, ছেলে সুস্থই ছিল। প্রথম তিনটে পরীক্ষা ভালোভাবেই দিয়েছিল। ইতিহাস পরীক্ষা দিতে গিয়েই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পেটে ব্যথা ও বমি শুরু হয়। পরীক্ষা চলাকালীন ছেলেকে ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে বসে ওই পরীক্ষার শেষটুকু দেয়। এরপর হাসপাতাল থেকে ওষুধপত্র দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আমরা ছেলেকে বাড়ি নিয়ে আসি। তখন ঠিকই ছিল। কিন্তু সোমবার রাতে আবারও প্রচণ্ড পেটে যন্ত্রণা শুরু হতেই ছেলেকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসি। অবস্থা খারাপ থাকায় ভূগোল পরীক্ষা দিতে পারেনি ছেলে।
মৃত পরীক্ষার্থীর বাবার দাবি, ছেলের ভালো চিকিৎসা হবে, এটা ভেবে মঙ্গলবার বিকেলে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এসে শহরের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করি। তবুও বাঁচাতে পারলাম না। বুধবার সকাল সাতটা নাগাদ ছেলের মৃত্যু হয়।
নার্সিংহোমে ওই ছাত্রের চিকিৎসা করেন ডাঃ রজত ভট্টাচার্য। এদিন তিনি বলেন, ছেলেটি পেটের জটিল সমস্যা নিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছিল। সমস্যা অনেক দিনের হওয়ায় পেটের ভিতর সেপসিস হয়ে গিয়েছিল। আমাদের এখানে যখন ছেলেটিকে নিয়ে আসা হয়, তখন তার পালস প্রায় ছিল না বললেই চলে। নিঃশ্বাস নিতে প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছিল। আমরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
মৃত ছাত্রের স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক রাঘবানন্দ বর্মন বলেন, ছেলেটিকে দেখে আমাদের কখনওই মনে হয়নি যে, সে অসুস্থ। কিন্তু হঠাৎ করে কী হল, বলতে পারব না। পরিবার সূত্রে খবর, মৃত ছাত্রের বাবা কৃষিকাজ করেন। তাঁর দুই ছেলে। বড় ছেলে মাধ্যমিকের পর আর পড়াশোনা করেনি। কিন্তু ছোট ছেলের পড়াশোনায় মনোযোগ ছিল। সেকারণে কষ্ট করে হলেও তার পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন সদরু। এদিন তিনি বলেন, অভিজিৎ সবসময় চনমনে থাকত। শুধু মাঝে একদিন বলেছিল, পেটে হালকা ব্যথা করছে। আমি ভেবেছিলাম, গ্যাসের ব্যথা। সেকারণে ফার্মেসি থেকে গ্যাসের ওষুধ এনে দিয়েছিলাম। তা খেয়ে কমেও গিয়েছিল।
(শোকস্তব্ধ পরিবার। মৃত অভিজিৎ (ইনসেটে)। - নিজস্ব চিত্র।)
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ