Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাতিঘিষায় প্রয়াত নকশাল নেতা কানু সান্যালের নামে লাইব্রেরি করবে মহকুমা পরিষদ

হাতিঘিষায় প্রয়াত নকশাল নেতা কানু সান্যালের নামে লাইব্রেরি করবে মহকুমা পরিষদ
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: একদা সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রয়াত নকশাল নেতা কানু সান্যাল। তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর তাঁর গ্রাম দত্তক নিয়েও গ্রামের হাল ফেরাতে পারেননি বিজেপির প্রাক্তন এক সাংসদ। এবার প্রয়াত সেই কানুবাবুর গ্রাম সেবদেল্লাজোতে তাঁর নামেই লাইব্রেরি গড়তে উদ্যোগী তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ। একই সঙ্গে তারা মাঞ্ঝা নদী, পাহাড় সংলগ্ন লালপুল গ্রাম ঘিরে নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রকল্পে হাত দিয়েছে। মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক চললে ইংরেজি নতুন বছরের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত করা হবে। শিলিগুড়িতে হাতিঘিষা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গ্রামগুলির মধ্যে সেবদেল্লাজ্যোত অন্যতম। ১৯৭৯ সাল থেকে এখানেই থাকতেন নকশাল আন্দোলনের অন্যতম নেতা কানুবাবু। তাঁর হাত ধরেই নকশাল আন্দোলন পায় অন্যমাত্রা। ২০১০ সালে ২৩ মার্চ বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। বর্তমানে সেই বাড়িটি কানু সান্যাল মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অধীনে। ২০১৪ সালের ২১ নভেম্বর সেখানে যান তৎকালীন দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য বিজেপির সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। তিনি গ্রামটি দত্তক নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। গ্রামের চেহারা পাল্টে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তা বাস্তাবায়িত হয়নি। সেই গ্রামে উন্নয়নের আলো পৌঁছেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের হাত ধরে। 
Advertisement
সভাধিপতি বলেন, ইতিমধ্যে গ্রামের রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। গত মাসে দার্জিলিংয়ের প্রশাসনিক সভা থেকে সেটির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এজন্য গ্রামটি ‘স্বজল গ্রামের’ স্বীকৃতি পেয়েছে। এবার সেবদেল্লাজোতে কানুবাবুর নামে লাইব্রেরি গড়া হবে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের বই থাকবে। এজন্য এক বিঘা খাস জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। শীঘ্রই সেখানে ভবন নির্মাণের কাজে হাত দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মহকুমা পরিষদের অর্থ স্থায়ী সমিতির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
হাতিঘিষা গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় থেকে পাকা রাস্তা দিয়ে কিছুটা এগলেই সেবদেল্লাজোত। রাস্তার একপাশে মাঞ্ঝা নদী। সেই রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলেই পর আরএকটি গ্রাম লালপুল। যা স্থানীয় বাসিন্দাদের ভ্রমণের অন্যতম স্থান। নদী বেষ্টিত এবং পাহাড় সংলগ্ন গ্রামটিতে সূর্যাস্তের চোখ জোড়ানো দৃশ্য দেখার জন্য ভিড় করেন স্থানীয়রা। প্রতিবছর শীতের মরশুমে সেখানে পিকনিকের জমজমাট আসরও বসে। সেখানে নয়া পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে মহকুমা পরিষদ। সভাধিপতি বলেন, সেবদেল্লাজোতের পাশাপাশি লালপুল গ্রাম সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। মাঞ্ঝা নদী সংস্কার করা হচ্ছে। সেখানে পর্যটকদের বসার, শিশুদের খেলার জন্য দোলনা, স্লিপার প্রভৃতির ব্যবস্থা করা হবে। থাকবে ফুল ও পাতাবাহারের গাছ। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলি রাজ্যের পঞ্চম অর্থ কমিশন এবং মহকুমা পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে বাস্তবায়িত করা হবে। 
এদিকে, কানু সান্যাল ট্রাস্টের অধীনে থাকা জমির লিজ চেয়েও তা পায়নি ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ। সিপিআই (এমএল)-এর রাজ্য সম্পাদক তথা ও ট্রাস্টের সদস্য দীপু হালদার বলেন, মহকুমা পরিষদ কি করবে বলতে পারছি না। ট্রাস্টের অধীনে থাকা জমি ভূমিদপ্তরের লিজ চেয়েও তা মেলেনি। এ ব্যাপারে রাজ্য সরকার স্পষ্ট করে কিছু জানাচ্ছে না। আর আদালতের নির্দেশেই গ্রামে পানীয় জলের ব্যবস্থা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ