Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাত নেই, পা দিয়ে লিখে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা জগন্নাথের

হাত নেই, পা দিয়ে লিখে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা জগন্নাথের
  • ৬ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জগন্নাথ দেবের মূর্তিতে দু’ হাত অনুপস্থিত। মানুষ জগন্নাথেরও তা-ই। মেমারির সিমলে গ্রামের জগন্নাথ মান্ডির জন্ম থেকেই দু’ হাত নেই। তাতে কী? পা তো আছে। পা দিয়ে লিখেই সে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। জগন্নাথ নুদিপুর বি এস ইনস্টিটিউটের আটর্সের ছাত্র। তার সিট পড়েছে মেমারি রসিকলাল স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ে। ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চায় সে। জগন্নাথ বলে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই পায়ে লেখা অভ্যাস করি। প্রথম দিকে সমস্যা হতো। কিন্তু এখন অবলীলায় লিখতে পারি। জন্ম থেকেই দু’ হাত নেই। পায়ে লেখা অভ্যাস করা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না। ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি ঝোঁক ছিল। সেই কারণে প্রতিকূলতা থাকলেও পড়াশোনা বন্ধ করিনি। দুই আঙুলের মাঝে পেন রেখে লিখতে এখন আর সমস্যা হয় না। পূর্ব বর্ধমানের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অমিত ঘোষ বলেন, ওই ছাত্রকে তারিফ করতে হয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তবে সে টেবিলে বসে পরীক্ষা দিতে পারেনি। মেঝেয় বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষা দিতে যাতে ওর সমস্যা না হয় তারজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে।  স্থানীয়রা বলেন, জগন্নাথ ঠাকুরমার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছে। তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। সেই ছোট থেকে তাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। হার না মানার জেদই তাকে এগিয়ে দিচ্ছে। মাধ্যমিক পরীক্ষাতেও সে পায়ে লিখে সফল হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকে আরও ভালো ফল করার প্রত্যাশা নিয়েই সে পরীক্ষায় বসেছে। ওই ছাত্র বলে, দু’ হাতে দু’টি আঙুল রয়েছে। হাত দিয়ে তেমন কাজ করতে পারি না। তবে পা দিয়ে নানা কাজ সহজেই করতে পারি। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা সহযোগিতা করেছেন। প্রথম দিকে ঠিকমতো লিখতে পারতাম না। বহু কসরত করার পর সাফল্য এসেছে। টানা কয়েক ঘণ্টা লিখতেও এখন কোনও সমস্যা হয় না। আগামী দিনে উঁচু ক্লাসে পড়ার ইচ্ছে রয়েছে। -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ