Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাত নেড়ে সাহায্যের আর্তি, গঙ্গায় তলিয়ে গেলেন ২ যুবক

হাত নেড়ে সাহায্যের আর্তি, গঙ্গায় তলিয়ে গেলেন ২ যুবক
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাটোয়া: শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে শিবের মাথায় জল ঢালার জন্য উপবাস করেছিলেন দুই বন্ধু। বুধবার সকালে দাঁইহাটে ভাগীরথীতে স্নান করতে গিয়ে তলিয়ে যান দু’জনেই। ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ বলে চিৎকার করলেও ফেরিঘাটের কেউই দু’জনকে বাঁচাতে আসেননি। পরে এক বন্ধুর নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে। অন্যজনকে সন্ধানে ডুবুরি নামানো হয়েছে। মর্মান্তিক এমন ঘটনায় শোকস্তব্ধ শহরের বাসিন্দারা। পুলিস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মৃত যুবকের নাম সুমন সাহা (২১)। নিখোঁজ যুবকের নাম নাম অর্ঘ্য সাহা (২২)। দু’জনেরই বাড়ি দাঁইহাট শহরে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অর্ঘ্য ও সুমন দু’জন বন্ধু। অর্ঘ্য রেজিস্ট্রি অফিসে ল’ক্লার্কের কাজ করেন। আর সুমন কাটোয়া কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন। এদিন সুমন, তাঁর ভাই অয়ন ও অর্ঘ্য দাঁইহাট শহরের মাটিয়ারি ফেরিঘাটে স্নান করতে যান। দুই বন্ধুই শিবরাত্রির জন্য উপবাস করেছিলেন। ভাগীরথীর পাড়ে অর্ঘ্য তাঁর বুলেট বাইকটি রেখে স্নানে নামেন। তাঁর সঙ্গে স্নানে নেমেছিলেন সুমনও। নদীর পাড়ে বসেছিলেন অয়ন। ফেরিঘাটে মাটিয়ারি থেকে বড় বার্জটি এলে নদীর পাড় লাগোয়া জলে জোর ঢেউ আসে। সেই ঢেউয়েই দুই বন্ধুই তলিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অর্ঘ্য ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় পাড়ে থাকা কেউই তাঁদের উদ্ধারে সচেষ্ট হননি বলে অভিযোগ। শেষে দাঁইহাট ফাঁড়ির পুলিস, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গিয়ে খোঁজাখুঁজি করে। দুপুরের দিকে সুমনের দেহ মেলে। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। অর্ঘ্যর সন্ধানে প্রশিক্ষিত ডুবুরি আনা হয়েছে।
Advertisement
সুমনের ভাই প্রত্যক্ষদর্শী অয়ন বলে, আমার দাদাকে দেখছি চোখের সামনে ডুবে যাচ্ছে, অর্ঘ্যদাদা বার বার বাঁচানোর জন্য চিৎকার করছে। আমি ফেরিঘাটের লোকজনের হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করলাম। কেউই আমার দাদাকে বাঁচাতে আসেনি। 
দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান প্রদীপ রায় বলেন, আমি ঘাটে গিয়েছিলাম। দূর্ঘটনার মুহূর্তে  ঠিক কী ঘটেছিল, তা খোঁজ নিয়ে দেখব। দাঁইহাট শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দেওয়ানগঞ্জ পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন অর্ঘ্য। তাঁর বাবা নান্টু সাহা  কাপড়ের ব্যবসা করেন। এদিন ছেলের এমন ঘটনা শুনে শোকে ভেঙে পড়েন মা শুক্লা দেবীও। সুমনের বাড়ি শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়া সিদ্ধেশ্বরী গ্রাম এলাকায়। তাঁর বাবা নীতীশ সাহা ও মা নমিতা দেবী বড় ছেলের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তাঁদের সামলাতে প্রতিবেশীরা ভিড় করেছেন বাড়িতে। 
অর্ঘ্যর আত্মীয় তারকনাথ সাহা বলেন, শহরে ভাগীরথী ঘাটে শিবরাত্রির দিন স্নানের জন্য ভিড় হয়েছিল প্রচুর। প্রশাসন কেন আগে থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে ঘাটে মোতায়েন করে রাখেনি? ফেরিঘাটের লোকজন কেন তাদের বাঁচাতে এলেন না? বেড়ার বাসিন্দা বাসুদেব বিশ্বাস বলেন, স্পিড বোট আগে থেকে রাখা ছিল না। পরিবহণ দপ্তরের জলসাথীর ভলন্টিয়ার ছিলেন দু’জন। তাঁরা মোবাইল ঘাঁটতে ব্যস্ত ছিলেন। কাটোয়ার মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন বলেন, ঘটনা শোনামাত্রই আমরা স্পিড বোট, বিপর্যয় মোকাবিলার বাহিনীকে ঘাটে মোতায়েন করেছি। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ