Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে পশ্চিম মেদিনীপুরে সমীক্ষা

হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে পশ্চিম মেদিনীপুরে সমীক্ষা
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: জেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে সমীক্ষা শুরু করল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। একই সঙ্গে পরিষেবার মান ও কর্মী সংখ্যাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা এই সমীক্ষার কাজ শুরু করেছেন। স্বাস্থ্যদপ্তরের জেলা অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, একমাস ধরে এই সমীক্ষা চলবে। এক আধিকারিক বলেন, আগামী ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সিএমওএইচ সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ইন্ডিয়ান পাবলিক হেলথ স্ট্যান্ডার্ড ২০২২’-কে গাইড লাইন ধরে এই সমীক্ষা করতে বলা হয়েছে। তার জন্য দপ্তরের আধিকারিকদের আগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সমীক্ষার রিপোর্ট প্রতিদিন আপলোড করতে বলা হয়েছে। 
Advertisement
তিনি বলেন, এই সমীক্ষার ভিত্তিতে আগামী দিনের পরিকল্পনা হবে। সেই মতো ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনের কাছে অর্থ অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হবে। সবকিছুই এই সমীক্ষার ওপর নির্ভর করবে। এক আধিকারিক বলেন, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সহ জেলার সমস্ত সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল, ২১টি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ৮৬৮টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এই সমীক্ষা চলছে। 
কোনও হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যে পরিকঠামো থাকা দরকার তা আছে কি না, রোগীদের যে পরিষেবা পাওয়া দরকার তাঁরা তা পাচ্ছেন কিনা এবং যত কর্মী থাকা দরকার তা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। রিপোর্টে কোথায় কী ঘাটতি আছে তা উল্লেখ করতে হবে। সেখানে পরিষ্কার লিখতে হবে কোথায় কী পাওয়া উচিত, কী পাওয়া যাচ্ছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ঘাটতি পূরণের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। 
অভিযোগ, বহু হাসপাতালে পর্যাপ্ত কর্মী নেই। ডাক্তার এবং নার্সেরও অভাব আছে। পরিকঠামোগত সমস্যাও প্রচুর। রোগীরা সঠিক পরিষেবা পান না। কোথাও সাধারণ ওষুধটাও কিনে দিতে হয়। পর্যাপ্ত শয্যাও নেই। ছোট হাপসাতালগুলি থেকে রেফার করে দেওয়ার প্রবণতায় দুর্ভোগে পড়তে হয় বাড়ির লোকদের। পিংলা গ্রামীণ হাসপাতালে চারদিকে আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। নোংরা জল জমে থাকে। পরিষেবা নেই বললেই চলে। প্রতিনিয়ত রোগী ও পরিজনেরা এই অভিযোগ করছেন। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে রোগী ও পরিজনদের জন্য শৌচালয়ের ব্যবস্থা নেই। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শয্যার অভাবে রোগীকে মাটিতে থাকতে হয়। এক আধিকারিক বলেন, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যদপ্তরের জেলা অফিসে এরকম নানা অভিযোগ আসছে। তবে সমীক্ষা হলে সেই বিষয়টি আরও ভালো করে পরিষ্কার হয়ে যাবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ