সংবাদদাতা, বোলপুর: পুলিসের গাফিলতিতে হাসপাতালে বিচারাধীন বন্দির মৃত্যুর ঘটনায় মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়াল গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর)। পুলিসের নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটল, তাই নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে এই সংগঠন। প্রসঙ্গত, শুক্রবার দুপুরে বোলপুর মহকুমা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের পুলিস সেলে বিছানার কাপড় গলায় জড়িয়ে আত্মঘাতী হন দেবনাথ বাগদি (৩২) নামের এক বন্দি। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। জেল কর্তৃপক্ষ, পুলিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এমনকী, বন্দির মৃত্যু হওয়ার পরেও পরিবারকে জানানোর প্রয়োজন করেনি বলে অভিযোগ তোলেন মৃতের মা মালতি বাগদি। তাই ওই দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদ করলেন এপিডিআরের সদস্যরা।
Advertisement
সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বোলপুর-শান্তিনিকেতন শাখার সভাপতি তথা শহরের প্রবীণ নাগরিক শৈলেন মিশ্র বলেন এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় আমরা বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাই। এই ঘটনায় কর্তব্যরত পুলিসের গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁদেরও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি ওই দরিদ্র পরিবার যাতে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পায়, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। উল্লেখ্য, বোলপুর থানার পুলিসি হেফাজতে থাকাকালীন ২০১৬ সালে ১৪ আগস্ট স্থানীয় দর্জিপাড়ার বাসিন্দা রাজু থান্ডার নামে এক বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। এই ঘটনাতেও সোচ্চার হয়ে এপিডিআর লাগাতার সক্রিয়ভাবে আন্দোলন করে। তারই ফলস্বরূপ এই মামলায় বোলপুর থানার তৎকালীন আইসি প্রবীর দত্ত ও তাঁর গাড়ির চালক চার বছর ধরে জেলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তাই, দেবনাথের মৃত্যুর ঘটনাটি প্রশাসন যদি হাল্কাভাবে নেয় তাহলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শৈলেনবাবু।



