নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: মুখে বলছে এক, কাজ করছে আর এক! অনুপ্রবেশ নিয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অষ্টপ্রহর তোপ দাগা বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েত এবার জড়াল জন্মের ভুয়ো শংসপত্র দেওয়ার অভিযোগে। দস্তুরমতো টাকার বিনিময়ে এইসব শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছিল। তাও আবার বাংলাদেশে সীমান্ত ঘেঁষা স্পর্শকাতর এলাকায়। যেখানে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে অহরহ অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার তদন্ত শুরু করে পুলিস। তাতে দেখা যায়, একটি নয়, জন্মের একাধিক জাল সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত হাঁসখালি ব্লকের ওই পঞ্চায়েতের সচিব সহ তিনজন চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
Advertisement
ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। উদ্বিগ্ন ব্লক প্রশাসনও। হাঁসখালি ব্লকের বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্য শুক্রবার বলেন, ‘ঘটনাটি বেশ উদ্বেগজনক। দীর্ঘধরেই এই অনৈতিক কাজ চলে আসছে বলে আমাদের অনুমান। পুলিস তদন্ত করছে।’ রানাঘাট পুলিস জেলার অতিরিক্ত সুপার লাল্টু হালদার বলেন, ‘জাল নথিতে প্রচুর সংখ্যক জন্মের শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে বলে আমাদের অনুমান। চারজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বিস্তারিত তথ্য পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরেই দেওয়া সম্ভব।’
হাঁসখালি ব্লকের বগুলা ২ গ্রাম পঞ্চায়েত। ক্ষমতায় বিজেপি। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সীমান্ত লাগোয়া গাঁড়াপোঁতা গ্রামের শ্যামনগরপাড়ার বাসিন্দা অপর্ণা গায়েন নামে এক মহিলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পর্দা ফাঁস হয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর নথি ব্যবহার করে অপরিচিত এক মহিলার জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি হয়েছে। তিনি থানার দ্বারস্থ হন। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, একটি কিংবা দু’টি নয়, ভুয়ো নথিতে তৈরি ও বণ্টন করা হয়েছে জন্মের একাধিক শংসাপত্র। তদন্তকারীদের দাবি, সংখ্যাটা কয়েক হাজার হতে পারে। চক্রের মূল মাথা হিসেবে নাম উঠে আসে পঞ্চায়েত সচিব প্রকাশ রায়ের। তাঁকে সহযোগিতা করতেন তিনজন চুক্তিভিত্তিক কর্মী—গোপাল ঘোষ, তনয় মণ্ডল এবং শ্যামানন্দ বিশ্বাস। পাঁচজনকেই গ্রেপ্তার করে শুক্রবার রানাঘাট মহাকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক ৭ দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
মূল অভিযোগকারী অপর্ণা গায়েন বলছিলেন, ‘বৃহস্পতিবার ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সামনে আমি একটি খাম পড়ে থাকতে দেখি। তাতে কিছু কাগজপত্র মেলে। সেটা আমি পরিচিত কয়েকজনকে দেখিয়ে জানতে পারি, আমার এবং আমার স্বামীর আইডি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত পরিচয় এক মহিলার জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে। আতঙ্কে আমি সটান থানায় চলে যাই। অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু ভাবতে পারিনি, এভাবে জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি হতে পারে!’
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হয় ওই পঞ্চায়েতের প্রধান সুস্মিতা বর্মনকে। ফোন ধরেছিলেন তাঁর স্বামী তিলক বর্মন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এ নিয়ে প্রধান কোনও মন্তব্য করবেন না। তবে, দলীয় প্রধান এবিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে সাফাই দিয়েছেন বিজেপির রানাঘাট উত্তর-পূর্বের বিধায়ক অসীম বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘সচিব দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতিগ্রস্ত। উনি নিজেই টাকার বিনিময়ে এই কাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। ওই সচিব তৃণমূল আমল থেকেই রয়েছেন। আমাদের দলের প্রধান এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না। এরসঙ্গে বিজেপি জড়িত নয়।’
যদিও গেরুয়া শিবিরের এই সাফাইকে ‘আষাঢ়ে গপ্পো’ বলে আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। দলের রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘পঞ্চায়েত জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র ইস্যু করা হচ্ছে, অথচ প্রধান জানেন না, এটা হতে পারে না। এই চক্রের নেপথ্যে আরও মাথা রয়েছে। পুলিস তদন্ত করে তাদের ধরার চেষ্টা করুক। বিজেপির আসল রূপ মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাক।’
হাঁসখালি ব্লকের বগুলা ২ গ্রাম পঞ্চায়েত। ক্ষমতায় বিজেপি। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সীমান্ত লাগোয়া গাঁড়াপোঁতা গ্রামের শ্যামনগরপাড়ার বাসিন্দা অপর্ণা গায়েন নামে এক মহিলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পর্দা ফাঁস হয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর নথি ব্যবহার করে অপরিচিত এক মহিলার জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি হয়েছে। তিনি থানার দ্বারস্থ হন। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, একটি কিংবা দু’টি নয়, ভুয়ো নথিতে তৈরি ও বণ্টন করা হয়েছে জন্মের একাধিক শংসাপত্র। তদন্তকারীদের দাবি, সংখ্যাটা কয়েক হাজার হতে পারে। চক্রের মূল মাথা হিসেবে নাম উঠে আসে পঞ্চায়েত সচিব প্রকাশ রায়ের। তাঁকে সহযোগিতা করতেন তিনজন চুক্তিভিত্তিক কর্মী—গোপাল ঘোষ, তনয় মণ্ডল এবং শ্যামানন্দ বিশ্বাস। পাঁচজনকেই গ্রেপ্তার করে শুক্রবার রানাঘাট মহাকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক ৭ দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
মূল অভিযোগকারী অপর্ণা গায়েন বলছিলেন, ‘বৃহস্পতিবার ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সামনে আমি একটি খাম পড়ে থাকতে দেখি। তাতে কিছু কাগজপত্র মেলে। সেটা আমি পরিচিত কয়েকজনকে দেখিয়ে জানতে পারি, আমার এবং আমার স্বামীর আইডি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত পরিচয় এক মহিলার জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে। আতঙ্কে আমি সটান থানায় চলে যাই। অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু ভাবতে পারিনি, এভাবে জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি হতে পারে!’
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হয় ওই পঞ্চায়েতের প্রধান সুস্মিতা বর্মনকে। ফোন ধরেছিলেন তাঁর স্বামী তিলক বর্মন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এ নিয়ে প্রধান কোনও মন্তব্য করবেন না। তবে, দলীয় প্রধান এবিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে সাফাই দিয়েছেন বিজেপির রানাঘাট উত্তর-পূর্বের বিধায়ক অসীম বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘সচিব দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতিগ্রস্ত। উনি নিজেই টাকার বিনিময়ে এই কাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। ওই সচিব তৃণমূল আমল থেকেই রয়েছেন। আমাদের দলের প্রধান এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না। এরসঙ্গে বিজেপি জড়িত নয়।’
যদিও গেরুয়া শিবিরের এই সাফাইকে ‘আষাঢ়ে গপ্পো’ বলে আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। দলের রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘পঞ্চায়েত জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র ইস্যু করা হচ্ছে, অথচ প্রধান জানেন না, এটা হতে পারে না। এই চক্রের নেপথ্যে আরও মাথা রয়েছে। পুলিস তদন্ত করে তাদের ধরার চেষ্টা করুক। বিজেপির আসল রূপ মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাক।’



