Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হার্মাদদের হাতে খুন বাবা-ভাই, বিচার পাননি তৃণমূলের ঝাড়গ্রাম শহর সভাপতি

হার্মাদদের হাতে খুন বাবা-ভাই, বিচার পাননি তৃণমূলের ঝাড়গ্রাম শহর সভাপতি
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
প্রদীপ্ত দত্ত , ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্ৰামে একসময় সিপিএমের কথাই ছিল শেষ কথা। খুনোখুনি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠতো নিত্য। সেই ক্রান্তিকালে জামবনি ব্লকের দুবড়া গ্ৰামে হার্মাদের হাতে খুন হয়েছিলেন সক্রিয় কংগ্রেস কর্মী মোহিনীমোহন ষড়ঙ্গী। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদল। ততদিনে মোহিনীমোহনের চার ছেলের মধ্যে তিন ছেলেই শাসকদলের হয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোট। তার ঠিক আগে জামবনিতে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে বিজেপির সঙ্গে সিপিএম গাঁটছড়া বাঁধে বলে অভিযোগ। ২০১৮ সালে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বলি হন মোহিনীমোহনের সেজো ছেলে চন্দন। বাবা মোহিনীমোহনের আগে থেকেই তিনি তৃণমূল করতেন। মেজো ছেলে প্রসূন ষড়ঙ্গী এখন ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি।  বাবা ও ভাইয়ের খুনিদের শাস্তি চেয়ে এখনও দিন গুনে চলেছেন তিনি। বাবার খুনিদের কেউ কেউ এখন বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভাইয়ের খুনিরাও জামিনে মুক্ত। 
Advertisement
তবে, ক্লান্ত নন তিনি। বরং চোয়াল শক্ত করে বলেন, একদিন না একদিন স্বজন হারানোর বিচার আমি পাবোই। খুনিদের কঠোর শাস্তি হবেই। সেই সঙ্গে অতীতের লাল-সন্ত্রাসের স্মৃতি খুঁড়ে প্রসূনের হুঁশিয়ারি—জেলাকে ফের অশান্ত করার চেষ্টা হলে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করব।
তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরও জঙ্গলমহলকে অশান্ত করার লক্ষ্যে  ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। উনিশ সালে লোকসভা ভোটের আগে নতুন করে আক্রমণ শুরু হয়। স্থানীয়স্তরে তৃণমূলের যেসব নেতা ও কর্মীরা মাথা নোয়াননি, তাদের এলাকা ছাড়তে হয়েছে। অনেকে আবার খুন হয়েছেন। জামবনি ব্লকের  তৃণমূল নেতা চন্দন ষড়ঙ্গীর গলার নলি কেটে খুন করা হয়েছিল‌। ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘আমাদের কর্মী চন্দনকে জামবনিতে খুন করা হয়েছে। সিপিএমের হার্মাদরাই এখন বিজেপির জল্লাদ হয়েছে।’ 
স্থানীয় আটজনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা করা হয়েছিল। ছ’ বছর ধরে সেই মামলা চলছে। বুধবার ঝাড়গ্রাম আদালতে এই মামলার সাক্ষ্যগ্ৰহণ ছিল। যদিও তা স্থগিত হয়ে যায়। প্রসূন ষড়ঙ্গী এদিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই মামলা চলছে। সিপিএমের হার্মাদ বাহিনী ২০০২ সালে বাবাকে দুবড়া গ্ৰামে খুন করেছিল। ঘটনায় আরও দু'জন খুন হয়েছিলেন। আমাদের বাড়ি ঘর আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেইসময় যাঁরাই ওদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল তাঁদের উপর অত্যাচার নেমে এসেছিল। আমরা কোনওদিন মাথা নত করিনি। ঘটনায় যারা যুক্ত ছিল এখনও তাঁরা সাজা পায়নি। রাজনৈতিক কারণে ভাইকেও খুন করা হয়েছিল। জেলার সিপিএম ও বিজেপি নেতারা জানতো ভাইকে না সরালে এলাকা দখল করা যাবে না। এখন বাবা ও ভাইয়ের বিচার পাওয়ার দিন গুনছি। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল করেছি। অভিজ্ঞতায় জানি ভোট এলেই বিরোধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে।’ সিপিএমের জেলা সম্পাদক প্রদীপ সরকার বলেন, ‘সিপিএম নেতা তাপস মল্লিককে খুনের ঘটনায় ফাঁসনো হয়েছিল। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে এই খুন হয়েছিল।’ 
সম্পর্কিত সংবাদ