Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হেরোইনের ‘হোম ডেলিভারি’, ফোন করলেই পৌঁছে যাচ্ছে বাড়িতে

হেরোইনের ‘হোম ডেলিভারি’, ফোন করলেই পৌঁছে যাচ্ছে বাড়িতে
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, ডোমকল: বাড়িতে বসে অ্যাপে অর্ডার করলেই দুয়ারে পৌঁছে যায় পোশাক, খাবার দাবার, সিগারেট এমনকী মদও। হোম ডেলিভারির এই জমানায় এখন নিষিদ্ধ ড্রাগসও পৌঁছে যাচ্ছে ঘরের দুয়ারে। তবে তা অ্যাপের মাধ্যমে নয়, নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করলেই পাওয়া যাবে নিষিদ্ধ ড্রাগ। ফোন করে দুই-তিনটি শব্দ খরচ করলেই বুকিং কনফার্ম। এরপর ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট জায়গায় পুরিয়া পৌঁছে দিচ্ছে ক্যারিয়াররা। সাগরপাড়া বাজারে পুলিসের নাকের ডগাতেই চলছে অবৈধ এই কারবার। কখনও মহিলা, কখনও যুবকদের দিয়ে পাঠানো হচ্ছে অবৈধ ড্রাগের পুরিয়া। পুলিসের সন্দেহ এড়াতেই এই ব্যবস্থা। প্রতি ১০০ টাকার পুরিয়া ডেলিভারি দিয়ে ক্যারিয়াররা পাচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। বাকি টাকা ঢোকে কারবারির পকেটে। তবে এই সুবিধা মেলে গুটিকয়েক ঠেক থেকেই। 
Advertisement
সাগরপাড়া থানা থেকে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যেই গজিয়ে উঠেছে অন্তত দশটির বেশি হেরোইনের ঠেক। কোথাও মুদিখানার দোকানের আড়ালে, কোথাও বাইরে থেকে তালাবন্ধ বাড়ির জানালা দিয়ে চলছে হেরোইনের মতো নিষিদ্ধ ড্রাগের এই কারবার। অভিযোগ, সবকিছু জেনেও নিষ্ক্রিয় পুলিস ও প্রশাসন। আরও অভিযোগ, হেরোইন কোন পথে ঢুকছে, কারা এই কারবারের পেছনে রয়েছে, এমন ব্যবসা চালাতে কোথায় কী ‘দিতে’ হয়, সব জেনেও হাত গুটিয়ে বসে পুলিস, ‘নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো’-র মতো আইন প্রয়োগকারী সরকারি এজেন্সিগুলি। কার্যত পুলিস প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদতেই নিষিদ্ধ ড্রাগের এই কারবার চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর খানেক আগেও একবার সাগরপাড়া থানা এলাকায় মাদকের রমরমা শুরু হয়েছিল। তবে পুলিস প্রশাসনের কিছুটা সক্রিয়তায় সেবারে রাশ টানা গিয়েছিল এই অবৈধ কারবারে। কিন্তু মাস কয়েক ধরে ফের সাগরপাড়ার রক্সি মোড়, নবীনগ্রাম, সাহেবনগর সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় তৈরি হয়েছে একাধিক হেরোইনের ‘হাব’। বাইরের জেলা থেকে হেরোইন আসছে স্থানীয় কারবারিদের কাছে। তারপরে এই হাবগুলি থেকে শুরু হচ্ছে হেরোইনের খুচরো বিক্রি। সামান্য পরিমাণের হেরোইন নিয়ে সিগারেটের রাংতা কিংবা অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েল অথবা ওয়াক্স পেপারে ভালো  করে মুড়ে তৈরি হচ্ছে ‘পুরিয়া’। সূত্রের খবর, প্রতিটি পুরিয়ার দাম শুরু হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে। হাবগুলিতে পুরিয়া রেডি হয়ে গেলেই অপেক্ষা একটি ফোন কলের। 
নিরাপদে হাতের কাছে এভাবে নেশার দ্রব্য পেয়ে যাওয়ায় সাগরপাড়ার বাজার ছাড়াও সীতানগর, চক চৈতন, নিলাম্বরপাড়া, সাহেবনগর, কাকমারী সহ বিভিন্ন এলাকার ছাত্র ও যুবকদের একটা বড় অংশ হেরোইনের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকছে। নেশার জন্য কখনও বাড়িতে টাকা চুরি করছে। কখনও আবার নেশার টাকার জন্য হাত ঢোকাচ্ছে গৃহিনীর মানি ব্যাগে। সেখানে না মিললে নেশার টাকা জোগাড়ের জন্য সাইকেল, বাড়ির লোহার বালতি, মগ পর্যন্ত হাপিশ করে দিচ্ছে নেশারুরা। আশপাশের বাড়িতে চুরি করতেও বাধছে না এদের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, নেশারুদের জ্বালায় আমরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। নিত্যদিন এটা সেটা চুরি হচ্ছে। রক্সি মোড়, নবীনগ্রাম, সাগরপাড়া বাজার রীতিমতো হিরোইনের ‘হাব’ হয়ে উঠেছে। পুলিসের কাছে সব খবরই রয়েছে। কিন্তু সময় মতো সঠিক জায়গায় ‘মাসোহারা’ পৌঁছে যাওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছে কারবারিরা। 
যদিও জেলা পুলিসের এক আধিকারিকের দাবি, মাদকের কারবার রুখতে লাগাতার অভিযান চলছে। সেই অভিযানে কারও কাছে মাদক পেলেই তার বিরুদ্ধে কেস করা হচ্ছে। তারপরেও যদি এইরকম নির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, তবে তা খতিয়ে দেখা হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ