সংবাদদাতা, বহরমপুর: সন্তান না হওয়ায় গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগে মৃতের স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতের নাম অরুণ শিকদার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে গৃহবধূর শাশুড়িকে। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে হরিহরপাড়া থানার গণেশনগরে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম শেফালি হালদার(৪৮)। হরিহরপাড়া থানার পুলিস জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। প্রাথমিক তদন্তে শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। রবিবার ধৃতকে বহরমপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তিনদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। প্রায় ২৭ বছর আগে ডোমকল থানার পিঁপড়েপুরি গ্রামের বাসিন্দা শেফালি হালদারের সঙ্গে বিয়ে হয় অরুণ শিকদারের। সন্তান না হওয়ায় স্বামী ও শাশুড়ির গঞ্জনা সহ্য করেই সংসার করছিলেন শেফালিদেবী। মৃতের দাদা জয়দেব হালদার বলেন, প্রায়ই শেফালিকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো। খুব কষ্ট সহ্য করেই বোন স্বামীর ঘর করত। পরিবারের অভিযোগ, শনিবার দুপুরে গৃহবধূকে চরম মারধর করা হয়। তারপর শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে অভিযুক্ত স্বামীই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁকে মৃত ভেবে মাঝ রাস্তা থেকে বাড়ি ফিরে আসে। মৃতের আত্মীয় আকাশ হালদার বলেন, আমাদের জানানো হয় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ আমরা গণেশনগরে পৌঁছই। তারপর তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে দাবি বাপেরবাড়ির লোকজনের। শনিবার রাতেই জয়দেব হালদার হরিহরপাড়া থানায় খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রাতেই পুলিস অভিযুক্ত স্বামী অরুণ শিকদার ও তার মা বন্দনা শিকদারকে বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদের পর শাশুড়িকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অরুণকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনায় অভিযুক্তের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতের পরিবার।



