ওয়াশিংটন: মন্দা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার ধাক্কা! বেকারত্বের থাবা চওড়া হচ্ছে মার্কিন মুলুকেও। চাকরি-বাকরি জোটানো রীতিমতো কঠিন হয়ে পড়ছে। শুধু সাধারণ স্নাতক নয়, মাথা কুটে মরতে হচ্ছে এমবিএদেরও। এমনকী খোদ হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের (এইচবিএস) মতো খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা পড়ুয়ারা পর্যন্ত চাকরি পাচ্ছেন না। গ্র্যাজুয়েশনের পর তিন মাস কেটে গিয়েছে। হার্ভার্ডের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ ব্যাচের এমবিএ পাশ পড়ুয়াদের ২৩ শতাংশ এখনও বেকার। মাত্র দু’বছর আগেও যা ছিল মাত্র ১০ শতাংশ। যদিও ২০২৩ সালে কর্মহীনতার হার বেড়ে ২০ শতাংশে পৌঁছে যায়। এবার চাকরি না পাওয়ার পরিসংখ্যান তার থেকেও বেশি। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে এই তথ্য। শুধু হার্ভার্ড নয়, হোয়ার্টন, স্ট্যানফোর্ড থেকে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টার্ন স্কুল অব বিজনেস— সর্বত্রই এক অবস্থা। একই পরিস্থিতির শিকার শীর্ষ স্থানীয় অন্য বিজনেস স্কুলগুলিও। কিন্তু কেন এই হাল? হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের কেরিয়ার ডেভেলপমেন্টের দায়িত্বে থাকা ক্রিস্টিন ফিৎজপ্যাট্রিকের সাফ কথা, ‘চাকরির বাজারে খারাপ দিন কাটছে। আমরাও তার বাইরে নই। হার্ভার্ডের পড়াশোনাও আজকাল আর খুব একটা পার্থক্য গড়তে পারছে না। পড়ুয়াদের ব্যক্তিগত দক্ষতা থাকা প্রয়োজন।’
Advertisement
ঘটনাচক্রে আমাজন, মাইক্রোসফ্ট ও গুগলের মতো শীর্ষ স্থানীয় সংস্থাগুলিও এমবিএ পাসআউটদের নিয়োগে রাশ টেনেছে। ফলে পাশ করেও চলতি বছরে চাকরি পেতে রীতিমতো নাজেহাল দশায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের। সব মিলিয়ে মার্কিন মুলুকে ভদ্রস্থ একটা চাকরি জোগাড় করতে গিয়ে জুতোর সোল ক্ষয়ে যাচ্ছে সদ্য স্নাতকদের। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্লেসমেন্ট পরিসংখ্যানের এতটা খারাপ হাল বহু বছর পরে হল। বিশেষ করে দুর্বিষহ অবস্থায় এমবিএ স্নাতকরা। ধাক্কা খেতে হচ্ছে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বুথ স্কুল ও নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ স্কুল অব ম্যানেজমেন্টকেও। এমবিএ পাশ করার তিন মাস পরও চাকরি জোটাতে পারেননি কেলগের ১৩ শতাংশ পড়ুয়া।
প্রকৃত অবস্থা কতটা কঠিন, তার উদাহরণও উঠে এসেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্টে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বুথ স্কুল থেকে মাত্র ৩৩ জন এমবিএ স্নাতককে নিয়োগ করেছে ম্যাককিনসে। গত বছরও ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা ৭১ জনকে চাকরি দিয়েছিল এই সংস্থাটি। পরিস্থিতি যে কতটা কঠিন, তা উঠে এসেছে ৩০ বছরের রনিল ডিওরার কথায়। ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডার্ডেন স্কুলের এই স্নাতক বলেন, হাজারের বেশি জায়গায় আবেদন করেছি। তা সত্ত্বেও জোটেনি চাকরি!
ভারতের ছবিটা অবশ্য আরও খারাপ। মোদি জমানায় বেকারত্ব নজিরবিহীন। আইআইটিতে পর্যন্ত হাহাকার। গত বছর ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টে চাকরি পাননি আট হাজার আইআইটি পড়ুয়া। ২০২২ সালের নিরিখে হিসেব করলে চাকরি না পাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে আড়াই গুণ।
প্রকৃত অবস্থা কতটা কঠিন, তার উদাহরণও উঠে এসেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্টে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বুথ স্কুল থেকে মাত্র ৩৩ জন এমবিএ স্নাতককে নিয়োগ করেছে ম্যাককিনসে। গত বছরও ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা ৭১ জনকে চাকরি দিয়েছিল এই সংস্থাটি। পরিস্থিতি যে কতটা কঠিন, তা উঠে এসেছে ৩০ বছরের রনিল ডিওরার কথায়। ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডার্ডেন স্কুলের এই স্নাতক বলেন, হাজারের বেশি জায়গায় আবেদন করেছি। তা সত্ত্বেও জোটেনি চাকরি!
ভারতের ছবিটা অবশ্য আরও খারাপ। মোদি জমানায় বেকারত্ব নজিরবিহীন। আইআইটিতে পর্যন্ত হাহাকার। গত বছর ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টে চাকরি পাননি আট হাজার আইআইটি পড়ুয়া। ২০২২ সালের নিরিখে হিসেব করলে চাকরি না পাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে আড়াই গুণ।



