নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জাল বার্থ সার্টিফিকেট কাণ্ডে পাঠানখালি পঞ্চায়েতের পর এবার নাম জড়াল হাওড়ার উলুবেড়িয়ার বাসুদেবপুর পঞ্চায়েতের। পাসপোর্ট তৈরির জন্য দালালরা এই পঞ্চায়েত থেকে জন্মের জাল শংসাপত্র তৈরি করাচ্ছে বলে অভিযোগ। ভুয়ো নথি জমা দিয়ে পাসপোর্টের আবেদন করার অভিযোগে সিকিউরিটি কন্ট্রোলের (এসসিও) হাতে ধৃত করিম খানের কাছে বাসুদেবপুর পঞ্চায়েত থেকে ইস্যু হওয়া বার্থ সার্টিফিকেটের নথি মিলেছে। গত কয়েক বছরে এখান থেকে কত শংসাপত্র বেরিয়েছে এবং কারা সেই নথি আপলোডের কাজে জড়িত, তার খোঁজ করছেন তাঁরা।
একবালপুরের বাসিন্দা করিম খানের বার্থ সার্টিফিকেট না থাকায় পাসপোর্ট তৈরিতে সমস্যা হচ্ছিল। দালালরা জানায়, টাকা দিলেই তা পাওয়া যাবে। ওই নথি তৈরি করে পাসপোর্টের আবেদন করে করিম। নথি যাচাইয়ের জন্য পাসপোর্ট দপ্তরের তরফে তা পাঠানো হয় কলকাতা পুলিসকে। তদন্তকারীদের নজরে আসে, বার্থ সার্টিফিকেটটি ইস্যু হয়েছে উলুবেড়িয়া ২ নম্বর ব্লকের বাসুদেবপুর পঞ্চায়েত থেকে। ওই নথি নিয়ে সংশয় জাগে তদন্তকারীদের। পোর্টালে প্রথমে করিমের নাম পাওয়া গেলেও কোনও অজ্ঞাত কারণে পরে তা সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই বার্থ সার্টিফিকেট বাসুদেবপুর পঞ্চায়েত ইস্যু করেছিল কি না, তা জানতে চিঠি পাঠানো হয় তাদের। ওই পঞ্চায়েতের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, এমন শংসাপত্র ইস্যু করেনি তারা। গ্রেপ্তার করা হয় করিমকে।
তদন্তে উঠে এসেছে, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের পোর্টালের দায়িত্বে থাকা চুক্তি ভিত্তিক কোনও কর্মীকে ম্যানেজ করে জাল বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করছে দালাল চক্র। যে নার্সিংহোমে জন্ম হয়েছে বলে দেখানো হচ্ছে, তার অস্তিত্ব কেবল কাগজে কলমে। আবেদনের পরই সংশ্লিষ্টের নাম পোর্টালে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এমনকী, মৃতদের নাম ব্যবহার করেও বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি হচ্ছে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। পোর্টাল থেকে ডাউনলোড করে নেওয়া হচ্ছে সার্টিফিকেট। যা পাসপোর্ট বা আধার তৈরির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বাসুদেবপুর পঞ্চায়েত এলাকা থেকে বার্থ সার্টিফিকেট তৈরির একাধিক নথি পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ওই পঞ্চায়েতের প্রধান গোপাল কোলের বক্তব্য, কেউ জন্ম সার্টিফিকেট তৈরির জন্য নথি দিয়ে পঞ্চায়েতের কাছে আবেদন করলে তাঁরা সেটি পোর্টালে তুলে দেন। পরে ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনের সময় কোনও জালিয়াতি ধরা পড়লে তাঁরা পোর্টাল থেকে সংশ্লিষ্টের নাম বাদ দেন। করিমের নাম যে কারণে পোর্টালে দেখাতে পারে। জালিয়াতির রিপোর্ট হাতে আসার পর তাঁরা ওই ব্যক্তির নাম সরিয়ে দিয়েছেন। ওই সার্টিফিকেট যে ভুয়ো, তার রিপোর্টও দিয়ে দিয়েছেন। নথি যাচাই না করেই কীভাবে তথ্য আপলোড করে দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই সুযোগ নিয়ে সার্টিফিকেট ডাউনলোড করে তা দিয়ে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করছেন অনুপ্রবেশকারীরা, এমনটাই বক্তব্য তদন্তকারীদের।