নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কন্যার বিয়ের সময় অস্বচ্ছল পরিবারগুলির আর্থিক সহায়তায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রূপশ্রী প্রকল্প শুরু করেছেন। এই প্রকল্পে আবেদন করলে বিয়ের জন্য আর্থিক অনুদান পান অবিবাহিত মেয়েরা। এবার কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারকে আরও সুবিধা দিতে ব্লকে ব্লকে ইভেন্ট হাউস তৈরি করতে চলেছে হাওড়া জেলা পরিষদ। বিয়ের অনুষ্ঠান করতে সেগুলি বিনামূল্যে পাবেন রূপশ্রী প্রাপকরা। এছাড়া ইভেন্ট হাউসগুলি অন্য কাজে ব্যবহার করে আয় বাড়াবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ইতিমধ্যেই উলুবেড়িয়া দু’নম্বর ব্লকে তৈরি হচ্ছে এরকম একটি ইভেন্ট হাউস।
পরিষদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিভিন্ন ব্লকে পঞ্চায়েতগুলি কমিউনিটি হল বানিয়েছে। তবে তা সংখ্যায় যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে খাওয়ানোর জন্য কেটারিং সংস্থাকে বরাত দিতে হয়। এছাড়া আধুনিক বেসরকারি ইভেন্ট হাউস হয়েছে। সে কারণেও সরকারি কমিউনিটি হলের প্রতি উৎসাহ হারাচ্ছে একশ্রেণির মানুষ। তাই এবার জেলাজুড়ে গ্রামীণ এলাকাগুলিতে সরকারি ইভেন্ট হাউস বানাতে উদ্যোগী জেলা পরিষদ। উলুবেড়িয়ার বাসুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে হাউস তৈরি শুরু হয়েছে। খরচ প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে বিয়ে, অন্নপ্রাশন বা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য হাউস ভাড়া নিতে পারবেন। তবে রূপশ্রী প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপ্তরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাবেন। খাবারদাবারের জন্য কেটারিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি লিজ নিয়ে হাউসের দেখাশোনা ও কেটারিংয়ের দায়িত্বে সামলাবে। গোষ্ঠীর মহিলা সদস্যরা করবেন পরিবেশন। পুরুষ সদস্যরা রান্নাবান্নার দায়িত্ব সামলাবেন। হাওড়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তাপস মাইতি বলেন, ‘দুঃস্থ পরিবারগুলি অনুষ্ঠান বাড়ি ভাড়া নিতে পারে না। বিনামূল্যে ইভেন্ট হাউস পেলে তাঁরা উপকৃত হবে।’ বাসুদেবপুর পঞ্চায়েতের পাইলট প্রজেক্ট সফল হলে প্রতিটি ব্লকে তা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে পরিষদের। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এর ফলে জেলা পরিষদের আয় বাড়বে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দিকেও ঝুঁকবে।