নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কোথাও থিম ভাবনায় ফুটে উঠছে ঘরবন্দি জীবনের ছবি, কোথাও আবার শৈশব থেকে পরিণত বয়সের নানা স্বপ্নের মুহূর্ত। ফিরিয়ে আনা হচ্ছে আলপনার মাধ্যমে গ্রাম্য জীবনকে। এ বছর দুর্গাপুজোয় জীবনের নানা কথা শোনাবে মধ্য ও পশ্চিম হাওড়ার তিন ক্লাব। চলছে তারই প্রস্তুতি।
হাওড়ার কামারডাঙ্গা শীতলাতলা বারোয়ারির দুর্গাপুজো এবার ৪১ তম বর্ষে। তাদের থিম ‘চতুষ্কোণ’। ঘরের চার দেওয়ালে আটক আজকের শৈশব থেকে বৃদ্ধ বয়সের মুহূর্ত ফুটে উঠছে থিম ভাবনায়। কংক্রিটের আকাশচুম্বীর ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছে শৈশব। মণ্ডপের ভিতরে ঢুকে দর্শনার্থীরা বুঝতে পারবেন কীভাবে ঘরে মোবাইল, ল্যাপটপ, বাতানুকূল যন্ত্রের আতিশয্যে মানুষ আজ বন্দি। পুজোর উদ্যোক্তা লবণ রক্ষিত, সিদ্ধার্থ কাঁড়ার বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যখন মণ্ডপে প্রবেশ করবেন, আশপাশের বিল্ডিং থেকে উঁকি দেবে বাচ্চারা। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দুর্গা প্রতিমাকেও শিশুর রূপ দেওয়া হয়েছে।’ এই পুজোর বাজেট প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা।
পঞ্চাননতলা রোডের পাগলা ফৌজ ক্লাবের পুজো এবছর ৪৪তম বছরে পা দিল। বাংলার আলপনা, পটচিত্রকে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে এই ক্লাবের মণ্ডপসজ্জায়। পুজোর থিম ‘শিল্প যখন মনে’। ক্লাব কমিটির তরফ সৌমেন রায় বলেন, ‘ফ্ল্যাট সংস্কৃতির আধুনিক সমাজে কাঁচা বাড়ি হারিয়ে যাচ্ছে। আলপনার মাধ্যমে জীবনের গল্প বলা হতো এক সময়। তবুও পটচিত্রকে বাঁচিয়ে রেখেছে পিংলা। হারিয়ে যাওয়া সেই গ্রাম্য জীবন ফুটিয়ে তুলছি আমরা।’ খড়ের চালার বাড়ি, উঠোনে-দেওয়ালে আলপনা, ধানের গোলা, পুরনো দিনের হাঁড়ি-বাসন, পটচিত্রের মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনের গল্প শোনাবে হাওড়ার এই পুজো। পুজোর বাজেট ছ’লক্ষ টাকা। প্রতিমা ও থিম শিল্পী অসীম পাঁজা বলেন, ‘দেবী এখানে বাংলার সাবেকি রূপে ধরা দেবেন। শুধু মণ্ডপ তৈরিতে নয়, প্রতিমার রঙেও ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব উপকরণ।’
অন্যদিকে, বালিটিকুরি বাজারের নেতাজি বালক সংঘ তাদের ২১ তম বর্ষের পুজোয় দর্শনার্থীদের নিয়ে যাবে স্বপ্নালোকে। প্রায় ২০ লক্ষ টাকা বাজেটের এই পুজো হাওড়ায় এবারের বড় পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম। স্বপ্নের বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে মণ্ডপের অন্দরমহলে পৌঁছবেন সাধারণ মানুষ। প্রথম স্তরে শৈশব জীবনের সাধারণ আঁকিবুঁকিতে স্বপ্নরা ধরা দেবে। ভিতরে মহিষাসুরমর্দিনীর অশুভ শক্তির বিনাশের মধ্যে দিয়ে দেখানো হবে পরিণত বয়সে কীভাবে দুঃস্বপ্নের সঙ্গে লড়তে হয়। থাকবে লাইটের বিশেষ খেলা। পুজো কমিটির সভানেত্রী মালা চট্টোপাধ্যায়, ক্লাব সভাপতি শৈবাল চট্টোপাধ্যায় কথায়, পদ্মবেষ্টিত দেবী প্রতিমাতেও থাকবে অভিনবত্ব।