নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শীতের শুষ্ক মরশুমে এমনিতেই বাতাসে ধুলোবালির পরিমাণ বাড়ে। তার উপর শহর জুড়ে একযোগে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় মধ্য ও উত্তর হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত ধুলোর শহরে পরিণত হয়েছে। ফোরশোর রোড থেকে বেনারস রোডে দিনভর যানজটের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে ধুলোর ঝড়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ধুলোর দাপটে নাজেহাল নিত্যযাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দারা। বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও চোখ জ্বালার মতো সমস্যাও। এদিকে ধুলো ঠেকাতে হাওড়া পুরসভার ভরসা মাত্র দু’টি স্প্রিংক্লার ভ্যান।
বর্ষার পর থেকেই হাওড়া শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার দশা ভালো ছিল না। সম্প্রতি কেএমডিএ শহরের বড় রাস্তাগুলির সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। বেলিলিয়াস রোড, নরসিংহ দত্ত রোড, ফোরশোর রোড, বেনারস রোড, টিকিয়াপাড়া ইস্ট-ওয়েস্ট বাইপাস, কাঁটাপুকুর থার্ড বাই লেন, পঞ্চাননতলা রোড, তাঁতিপাড়া রোড, দেবেন্দ্র গাঙ্গুলি লেন- প্রায় সর্বত্রই চলছে খোঁড়াখুঁড়ি ও ব্লক বসানোর কাজ। পাশাপাশি পথশ্রী প্রকল্পের আওতায় আরও একাধিক রাস্তায় কাজ শুরুর তোড়জোড় চলছে। কিন্তু এই উন্নয়নের খেসারত নাগরিকদের দিতে হচ্ছে ধুলো গিলে। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যায় যানজট বাড়লে ধুলোর পরিমাণ এমন পর্যায়ে যাচ্ছে যে, গোটা এলাকা আবছা হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ, মুখে মাস্ক ব্যবহার করেও কাশি থামছে না নিত্যযাত্রীদের। বর্তমানে পরিস্থিতি সব থেকে খারাপ ফোরশোর রোডে। কলকাতাগামী লেনের প্রায় পুরো অংশ জুড়ে ব্লক বসানোর কাজ চলায় বড় বাস ও ভারী যান চলাচলের সঙ্গে সঙ্গে ধুলোর ঝড় উঠছে। একই ছবি বেনারস রোডের বামনগাছি ব্রিজ থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট বাইপাস পর্যন্ত অংশে। উত্তর হাওড়ার নস্করপাড়া রোড ও শ্রীরাম ঢ্যাং রোডের অবস্থাও কম শোচনীয় নয়।
ধুলোর জন্য বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। কাপড়ের দোকান থেকে মিষ্টির দোকান, জিনিসপত্র ঢেকে রেখেও রক্ষা মিলছে না। আর গোটা শহরের ধুলো সামলাতে নিধিরাম সর্দারের মতো হাওড়া পুরসভার ভরসা মাত্র দুটি স্প্রিংক্লার ভ্যান। ৫০টি ওয়ার্ডের জন্য এই ব্যবস্থা যে হাস্যকর রকমের কম, তা বলছেন বাসিন্দারাই। অভিযোগ, ২০২৩ সালে সুডা থেকে পাওয়া দুটি রোড ভ্যাকিউম কাম সুইপার গাড়ি পুরসভা চত্বরে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতেও এই গাড়ি দু’টিকে রাস্তায় নামানো হয়েছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কিছু ত্রুটির কারণে সেগুলিকে চালানো যাচ্ছে না। পুরসভার দাবি, বড় আকারের স্প্রিংক্লার ভ্যান ছোট রাস্তায় ব্যবহার করা যায় না। গত প্রশাসকমণ্ডলী থাকাকালীন ছোট স্প্রিংক্লার ভ্যানের জন্য পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু মেলে দু’টি বড় স্প্রিংক্লার ভ্যান। সেই দু’টিই এখন চলছে। ধুলোর দাপট নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন নাগরিকরা। নিজস্ব চিত্র