Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাধুর বেশে এসে সোনার গয়না দ্বিগুণ করার টোপ, হাওড়ায় হাতসাফাই চক্র

একনজরে দেখে মনে হবে যেন ভিনরাজ্যের কোনও আশ্রম থেকে আসা সাধু

সাধুর বেশে এসে সোনার গয়না দ্বিগুণ করার টোপ, হাওড়ায় হাতসাফাই চক্র
  • ২২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পরনে গেরুয়া পোশাক। গলায় রুদ্রাক্ষের মালা। একনজরে দেখে মনে হবে যেন ভিনরাজ্যের কোনও আশ্রম থেকে আসা সাধু। এই বেশ ধরে মঙ্গলবার দুপুরে হাওড়া শহরের রামেশ্বর মালিয়া লেনের দু’টি বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের বিভিন্ন কথার জালে জড়িয়ে সম্মোহিত করে দুষ্কৃতীরা। জাদুবলে সোনার গয়না দ্বিগুণ করে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে সেগুলি নিয়ে চম্পট দেয় ওই দুষ্কৃতী দলটি। প্রতারিত দুই পরিবার হাওড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

Advertisement

তদন্তে নেমে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে দক্ষিণেশ্বর থেকে বিহারের বানজারা গ্যাংয়ের চার দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতদের নাম হদিস লাঠোর (৪০), ছোটু লোহার (২৮), নেতা লাঠোর (২৫) ও মনোজ লাঠোর (২৫)। ধৃতরা প্রত্যেকেই বিহারের গয়ার বাসিন্দা।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে মধ্য হাওড়ার বঙ্গবাসী কলেজের কাছে রামেশ্বর মালিয়া লেনে পাশাপাশি দুটো বাড়িতে সাধুর বেশে ঢোকে ওই চার দুষ্কৃতী। নিজেদের অলৌকিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত সন্ত বলে পরিচয় দেয় তারা। বাড়ির মহিলাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ গল্প করে তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করে। এরপর মহিলাদের কাছ থেকে দুটি সোনার মঙ্গলসূত্র ও দুটি লকেট নেয় তারা। হাতের কারসাজিতে সেগুলিকে সরিয়ে দেয়। একটি রুমালের মধ্যে নকল গয়না রেখে ছাই মিশিয়ে রুমালটি পুটলির মতো করে বেঁধে দেয়। তারপর বাড়ির পূর্ব কোণে সেটিকে রেখে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। মহিলাদের বলা হয়, সন্ধ্যার পর সেই রুমালের পুঁটলি খুললেই দ্বিগুণ সোনার গয়না পাওয়া যাবে। এই বলে এলাকা ছেড়ে চলে যায় ভেকধারী ওই চার যুবক। সন্ধ্যা নাগাদ রুমালের পুঁটলি খুলতেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে মহিলাদের। দেখা যায়, ভিতরে শুধু নকল সোনার গয়না। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে থানার দ্বারস্থ হয় দুই পরিবার। মহিলারা জানান, সাধুবেশী যুবকদের কথায় তাঁরা সম্মোহিত হয়ে পড়েছিলেন। কখন আসল গয়না হাপিস করে দিয়েছে, বুঝতেই পারেননি।
এদিকে, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্তে নামে হাওড়া থানার পুলিস। রামেশ্বর মালিয়া লেন থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয়। পুলিস জানিয়েছে, বঙ্গবাসী মোড় থেকে একটি সাধুর দলকে বাসে উঠতে দেখা যায়। সেই সূত্র ধরেই গভীর রাতে, দক্ষিণেশ্বরে ওই নকল সাধুদের গোপন ডেরায় অভিযান চালায় পুলিস। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় গ্যাংয়ের মূল পান্ডা হদিস লাঠোর সহ চারজনকে। ধৃতদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত হয়েছে দু’টি সোনার মঙ্গলসূত্র। তাদের হেফাজতে নিয়ে বাকি সোনার গয়না উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস।
 হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ওই বানজারা দলটি কিছুদিন আগে গয়া থেকে দক্ষিণেশ্বরে এসে ডেরা বাঁধে। সাধুর বেশে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ধর্মের কথা শুনিয়ে হাতের কারসাজিতে লুট করাই এদের লক্ষ্য। রীতিমতো পরিকল্পনা করে হাওড়া শহরের ওই পাড়ায় ঢুকেছিল ওরা। দলের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত রয়েছে, তা জিজ্ঞাসাবাদ করে দেখা হচ্ছে। তবে, এদিনের এই ঘটনার পর শহরবাসীকে সতর্ক থাকতে বলছে পুলিস। এই ধরনের কোনও সাধুর বেশধারী দল এলাকায় দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় জানানোর অনুরোধ করেছে 
তারা।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ