Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অভিজাত আবাসনগুলির প্রবেশপথে ‘মেটাল ডিটেক্টর’ বাধ্যতামূলক হোক, চাইছে হাওড়া সিটি পুলিশ

শহরের অভিজাত আবাসনগুলিতে বাইরে থেকে ঢুকছে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র

অভিজাত আবাসনগুলির প্রবেশপথে ‘মেটাল ডিটেক্টর’ বাধ্যতামূলক হোক, চাইছে হাওড়া সিটি পুলিশ
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শহরের অভিজাত আবাসনগুলিতে বাইরে থেকে ঢুকছে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র। প্রবেশদ্বারে কোথাও মেটাল ডিটেক্টর কিংবা ব্যাগপত্র পরীক্ষার স্ক্যানার নেই। বুধবার শিবপুরের এক অভিজাত আবাসনে গুলি চালানোর ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে হাওড়া সিটি পুলিসের। এবার থেকে প্রতিটি বড় আবাসনের প্রবেশদ্বারে মেটাল ডিটেক্টর বাধ্যতামূলক করা হোক, এমনটাই চাইছে পুলিশ।

Advertisement

বুধবার সকালে শিবপুর ট্রাম ডিপোর কাছে এক অভিজাত বহুতল আবাসনের ফ্ল্যাটে গুলিবিদ্ধ হন এক গৃহবধূ। স্ত্রীকে ভয় দেখাতে গিয়ে বেআইনি সেভেন এমএম পিস্তল থেকে গুলি চালিয়ে দেয় স্বামী গোপাল যাদব। ধৃতকে এদিন হাওড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন আগেই বিহারের মুঙ্গেরে তৈরি ওই আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে এনে রাখে গোপাল। বিহারের সিওয়ানে গ্রামের বাড়িতে গেলে সবসময় সে আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে নিয়ে যেত। মূলত প্রভাব প্রতিপত্তি দেখানোর জন্যই গোপাল ওই আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রাখত। গুলি চালানোর ঘটনা না ঘটলে চলতি সপ্তাহে ফের ওই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বিহারে যাওয়ার কথা ছিল তার। তবে গোপালের কাছে আরও বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘সিওয়ানের জমি বিক্রি করে মোটা টাকায় হাওড়ায় ফ্ল্যাট কেনে গোপাল। তার সঙ্গে বিহারের দুষ্কৃতী যোগের আরও সূত্র খোঁজা হচ্ছে।’
এদিকে, শহরের বহু অভিজাত আবাসনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি কার্যত স্বীকার করেছে পুলিশ। শিবপুর থানা এলাকাতেই প্রায় ছ’টি অভিজাত বহুতল আবাসন রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র একটিতে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে ব্যাগ পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। বাকিগুলিতে স্ক্যানার তো দূরঅস্ত, পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা রয়েছে কি না, তা নিয়েই সন্দেহ পুলিশের। চ্যাটার্জিহাট থানা, বি গার্ডেন থানা, হাওড়া থানা, গোলাবাড়ি থানা এলাকাতেও রয়েছে বহু অভিজাত আবাসন। সেই আবাসনগুলিতে নতুন কারা ঢুকছে, কোন ফ্ল্যাটে কত অতিথি আসছে, রেজিস্টারে সেসব উল্লেখ করা হয় কি না, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। এক আধিকারিকের কথায়, বহুতল আবাসনগুলিতে কমপক্ষে ৫০০-৬০০টি ফ্ল্যাট থাকে। ভিতরে যেহেতু পুলিশি নজরদারির অবকাশ নেই, তাই এমন বহু ফ্ল্যাট এখন দুষ্কৃতীদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র মজুতের নিরাপদ জায়গা হয়ে উঠেছে। হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবারের ঘটনার পর প্রতিটি বড় আবাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। এবার থেকে ব্যাগ স্ক্যানার মেশিন কিংবা হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হবে। এ নিয়ে আবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসবে পুলিশ।  ইছাপুরের লেক ভিউ অ্যাপার্টমেন্টের প্রবেশপথ। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ